যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটির কাছে কথিত নিরাপত্তা ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং তেহরান এ ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
বুধবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে গত সপ্তাহান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ইরান ভূমিকা রেখেছে এমন জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, “ফেয়ারফোর্ডে সপ্তাহান্তে যা ঘটেছে, তাতে ইরান ভূমিকা রেখেছে এমন জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এটি এখনো চলমান, জটিল ও গুরুতর একটি পুলিশি তদন্ত।”
বার্নহ্যাম জানান, তদন্তে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তবে কী ধরনের হামলা বা নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল কিংবা কোন তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে।
ঘটনার সূত্রপাত রোববার ভোরে। ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি সাদা ভ্যান দেখা যাওয়ার পর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় এক বাসিন্দা পুলিশকে জানান, ভ্যানগুলোর কাছে মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখা গেছে। পরে ঘাঁটির আশপাশ থেকে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনই ২০-এর কোঠায়। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে মামলা করা হয়। তবে একদিন পর তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছেন এবং কঠোর শর্তে জামিনে আছেন।
ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের অভিযানসহ কয়েক দিন ধরে তদন্ত চালানোর পর পুলিশ জানায়, ভ্যানগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেট্রল পাওয়া গেছে। পুলিশ এখনো ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এর পেছনে কোনো বিদেশি পক্ষ থাকতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছিলেন, সন্দেহজনক ঘটনাটিতে ‘বিদেশি কোনো পক্ষের হাত’ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট বলে মনে হচ্ছে। তবে তিনি সরাসরি ইরানকে দায়ী করার বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি।
এর পরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সরাসরি অভিযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও এখনো তদন্ত শেষ করেনি এবং ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রকৃত ভূমিকা বা ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ধরন প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, লন্ডনে ইরানের দূতাবাস এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দূতাবাস বলেছে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে পাঁচ সন্দেহভাজনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে ইরানকে যুক্ত করার যে আলোচনা চলছে, তা ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ’। তেহরান এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে মার্কিন বিমান এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘাঁটির আশপাশের ঘটনাটি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার কাছেই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তদন্তের এই পর্যায়ে ঘটনাটির উদ্দেশ্য, পাঁচ সন্দেহভাজনের ভূমিকা এবং ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাজ্য।
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৬০ শিশুসহ ১০০ ফিলিস্তিনির গণদাফন
নাইন-ইলেভেনের মতো 'বড় বিপর্যয়' ঠেকানো গেছে: নেতানিয়াহু
ঘরে ঢুকে ভুলে যাচ্ছেন কেন এসেছিলেন, তা কি স্বাভাবিক নাকি বিপদের ইঙ্গিত?