আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছেন চার নভোচারী, থাকবেন কতো দিন?

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) নতুন চার নভোচারীর একটি দল পৌঁছেছে। স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে করে যাত্রা করা এই চার সদস্য বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আইএসএসে ডকিং করেন। সেখানে তারা প্রায় ছয় মাস অবস্থান করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

নতুন দলের সদস্যরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা ওয়াটকিন্স ও লুক ডেলানি, কানাডার জোশুয়া কুটরিক এবং রাশিয়ার সের্গেই তেরেতিয়াতনিকভ।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ক্রু-১৩ মিশনের নভোচারীদের নিয়ে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের প্রায় ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট পর ‘গ্রেস’ নামের ড্রাগন ক্যাপসুলটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের একটি ডকিং পোর্টে সফলভাবে যুক্ত হয়।

নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মহাকাশযানের আইএসএসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে কম সময়ের একটি যাত্রা। উৎক্ষেপণের পর ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল বা ২৮ হাজার ১৬৩ কিলোমিটার গতিতে মহাকাশে এগিয়ে যায়।

নাসা টিভিতে সম্প্রচারিত দৃশ্যে ড্রাগন ক্যাপসুলকে ধীরে ধীরে মহাকাশ স্টেশনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। ডকিং সম্পন্ন হওয়ার পর মাটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ড্রাগনের ‘হার্ড ক্যাপচার’ সম্পন্ন হয়েছে।

এরপর ক্যাপসুলের হ্যাচ খুলে দেওয়া হলে নতুন চার নভোচারী চাপ নিয়ন্ত্রিত সংযোগপথ দিয়ে আইএসএসে প্রবেশ করবেন। উৎক্ষেপণের সময় মহাকাশ স্টেশন থেকে মহাকাশযানটির দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে আইএসএসে পৌঁছাতে সময় কমবেশি হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উৎক্ষেপণ করা সর্বশেষ একটি ক্রুকে আইএসএসে পৌঁছাতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল। তবে ক্রু-১৩ দলের যাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেক কম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে।

ক্রু-১৩ দলের আইএসএসে পৌঁছানোর কথা ছিল সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। কিন্তু ড্রাগন ক্যাপসুলে লিক শনাক্ত হওয়ায় নির্ধারিত উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায়।

নতুন দলটি বর্তমানে স্টেশনে থাকা ক্রু-১২-এর দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ক্রু-১২ দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ফ্রান্সের সোফি আদেনো এবং রাশিয়ার আন্দ্রেই ফেদায়েভ। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ক্রু-১২-এর সদস্যরা আগামী সোমবারের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরতে পারেন।

প্রায় ২৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটি মানুষের নিয়মিত বসবাসের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে পুরোনো হয়ে আসা এই স্টেশনকে ২০৩০ সালের দিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে একটি মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে পতন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় টানাপোড়েন তৈরি হলেও আইএসএস পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অন্যান্য অংশীদার দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত