শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ প্রায় ৫০০ স্কুল

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২০ পিএম

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নানা সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ এবং দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে সোমবার (৫ অক্টোবর) ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৫০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এদোয়ার্ড জেফ্রে (Édouard Geffray) জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার পরিবেশ না থাকায় অন্তত "৪০০ থেকে ৫০০"টি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান "সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে স্থগিত" থাকবে।

তিনি আরও জানান, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বেহাল স্কুল ভবনের সুযোগ-সুবিধার প্রতিবাদে গত সপ্তাহ থেকে প্যারিস ছাড়াও মন্টপিলিয়ার, নঁতে ও মার্সেইয়ের মতো প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন জানিয়েছিলেন, দেশের ৩ হাজার ৭০০টি স্কুলের মধ্যে প্রায় ৭৩৫টি স্কুল কোনো না কোনোভাবে এই সহিংস বিক্ষোভের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর সংখ্যা গত শুক্রবারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এদোয়ার্ড জেফ্রে অভিযোগ করেন, "বিশেষ করে উগ্র-বামপন্থী কর্মীরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে এটিকে হাইজ্যাক করেছে এবং চরম সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে।" তিনি বলেন, "এটি স্পষ্টতই আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে।" বিক্ষোভের এই ঘটনায় শিক্ষাক্ষেত্রের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার এক দিনেই ১ হাজার ৭৪,৭ জন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া এএফপি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ওদিকে বিক্ষোভের আয়োজকরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের "সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ" না নেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু (Sébastien Lecornu) জানিয়েছেন, সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষণ কর্মীদের মুখোমুখি হওয়া সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে—ক্লাস সচল রাখা, সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন, স্কুলগুলোর সময়সূচি আরও ভালোভাবে সাজানো এবং ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্ল্যাটফর্মকে আরও স্বচ্ছ করা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে সরকার 'ভ্যান্ডাল-পেজ' (vandal-pays) বিলের পর্যালোচনা প্রক্রিয়াও দ্রুততর করছে, যাতে সম্পত্তির ক্ষতিসাধনকারীদেরকেই এর আর্থিক মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

সূত্র: বিবিসি

ওয়াইএ
আরও পড়ুন