ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করলেন পেজেশকিয়ান

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচিকে মনোনয়ন দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন কাজ করা এই জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মনোনয়ন এখন অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে যাবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে পার্লামেন্টে পাঠানো চিঠিতে আখলাঘি কেতাবচির নাম প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে প্রস্তাব করা হয়। ইরানের সংবিধানের ১৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে তার কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনার পর আস্থাভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আখলাঘি কেতাবচি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে তিনি দেশটির অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রতিরক্ষা শিল্প কাঠামোর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তবে তার মনোনয়ন এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বের অধীনে রয়েছে। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী নেতৃত্বের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরপর ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

আখলাঘি কেতাবচির নাম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকাতেও রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নথি অনুযায়ী, তিনি প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা (DIO) এবং অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে ইইউ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এর আগে তিনি শাহিদ বাঘেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেরও তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তার মনোনয়ন দেশটির বর্তমান সামরিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়টি দেশটির সামরিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে আখলাঘি কেতাবচি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন কি না, তা এখন নির্ভর করছে ইরানের পার্লামেন্টের আস্থাভোটের ওপর।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত