বৃহস্পতিবার ইরানে সরাসরি ফ্লাইট চালু করছে ইরাকি এয়ারওয়েজ

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ পিএম

ইরানে আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে ইরাকি এয়ারওয়েজ। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহানে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে দেশটির জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ইরাকি এয়ারওয়েজ জানায়, যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং ইরাকের সঙ্গে ইরানের তিন শহরের মধ্যে নিয়মিত আকাশ যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই এই সেবা পুনরায় চালু করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইরানি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ইরাকি এয়ারওয়েজ বিশেষ ছাড় পেয়েছে। প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ও কারিগরি শর্ত পূরণের পরই ফ্লাইট পুনরায় চালুর পথ খুলে যায়।

ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এক মাসের জন্য এই বিশেষ ছাড় দিয়েছে। এ ছাড় পেতে বাগদাদ যাত্রীদের নিরাপত্তা যাচাই, তথ্য আদান-প্রদান এবং ফ্লাইটগুলো যাতে অস্ত্র, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ব্যক্তি কিংবা অবৈধ অর্থ পরিবহনে ব্যবহৃত না হয়—সেই বিষয়ে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে।

ইরানে বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ানোর মধ্যেই এই ছাড়ের ঘটনা ঘটল। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ওয়াশিংটন ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করেছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের সক্রিয় থাকা অবশিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরানের বিমান চলাচল ব্যবস্থা অস্ত্র, জনবল ও নিষিদ্ধ পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে।

সামরিক উত্তেজনার কারণে চলতি বছরের মার্চের শুরুতে ইরাকে থেকে ইরানে সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত করেছিল ইরাকি এয়ারওয়েজ। সে সময় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছিল বলে জানায় দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়।

এদিকে গত ২ অক্টোবর ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় মাহান এয়ার ছাড়া ইরানের অন্যান্য বিমান সংস্থা প্রতিদিন নাজাফে ৪০টি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।

ইরানের মাহান এয়ার অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ২০১১ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বিমান সংস্থাটিকে যুক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাহান এয়ার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সকে আর্থিক, উপকরণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে।

ইরাকি এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পুনরায় চালুর ফলে ইরাক ও ইরানের মধ্যে যাত্রী পরিবহন ও ধর্মীয় পর্যটনসহ দুই দেশের আকাশ যোগাযোগে নতুন গতি আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এক মাসের বিশেষ ছাড় এবং ইরানি বিমান চলাচল খাতে চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে এই যোগাযোগ কতটা স্থায়ী ও নির্বিঘ্ন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এমইউ
আরও পড়ুন