দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, ২৪ গাড়িতে আগুন

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণের বিষয়ে আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। দেশটির জোহানেসবার্গ ও ডারবান শহরে বিক্ষোভকারীরা অন্তত ২৪টি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন। বিদেশিদের মালিকানাধীন দোকানপাটেও লুটপাট চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জোহানেসবার্গের সোয়েতো টাউনশিপ ও পূর্ব উপকূলের বন্দরনগরী ডারবানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জোহানেসবার্গে ১০টি এবং ডারবানে ১৪টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা শরণার্থী কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। গত জুলাইয়ে দেশটির সাংবিধানিক আদালতের দেওয়া একটি রায়কে কেন্দ্র করে তাঁদের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওই রায়ে আশ্রয়ের আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত বাধা শিথিল করা হয়।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদকের প্রত্যক্ষ করা ঘটনা অনুযায়ী, সোয়েতোতে স্থানীয় বাসিন্দারা সোমালিয়ার এক নাগরিকের মালিকানাধীন বলে দাবি করা একটি দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরিয়ে নিচ্ছিলেন। দোকানমালিককে তাড়িয়ে দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁরা সরে যান।

ডারবানের নগরকেন্দ্রেও গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেখানে বিদেশিদের মালিকানাধীন দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এএফপির প্রতিবেদকেরা জানান, বিদেশিদের পরিচালিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত জাতীয় পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুলেং দিমপানে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানান। ডারবানের সহিংসতার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথাও নিশ্চিত করেন তিনি।

আশ্রয়ের আবেদনসংক্রান্ত আদালতের রায় নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্যকে সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার। বৃহস্পতিবার অভিবাসনবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানায়, আদালতের রায় কার্যকরের পর আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণকারী কার্যালয়গুলোতে আবেদনকারীর চাপ বেড়েছে। এর আগের দিন কমিটি জানিয়েছিল, নতুন আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সব কার্যালয়ের কার্যক্রম সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আদালতের রায়ে অনিয়মিতভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশ করা, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ট্রানজিট ভিসা না থাকা কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হতে না পারার কারণে আবেদন করার ক্ষেত্রে যেসব প্রক্রিয়াগত বাধা ছিল, তার কিছু অপসারণ করা হয়েছে।

আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণের বাড়তি চাপ সামলাতে সরকার যখন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত