যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তৈরি ২ দশমিক ৬ মিটার উচ্চতার একটি নগ্ন স্বর্ণমূর্তি প্রদর্শন করা হয়েছে ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে। ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ বা ‘কমলার মহামারি’ শিরোনামের এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে ট্রাম্পের নেতৃত্ব, নীতি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে তাঁর ভূমিকার সমালোচনা করেছেন ডেনমার্কের শিল্পী ইয়েন্স গালশিয়ট।
৯ অক্টোবর ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
২৩ ক্যারেটের সোনার পাত দিয়ে আবৃত মূর্তিটিতে ট্রাম্পকে নগ্ন অবস্থায় এক দুর্বল ও খর্বকায় মানুষের কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর হাতে রয়েছে একটি গলফ ক্লাব এবং ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা। ক্ষমতার এই ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার কারণে শিল্পকর্মটির আরেকটি নাম দেওয়া হয়েছে ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ বা ‘অবিচারের রাজা’।
শিল্পী গালশিয়টের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূর্তির নিচে থাকা দুর্বল মানুষটি প্রতীকীভাবে সেই জনগোষ্ঠী ও দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে, যাদের ওপর ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতাদের সিদ্ধান্তের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়।
মূর্তির নিচে একটি ফলকে লেখা রয়েছে, একজন মানুষের পিঠে বসে থাকা ব্যক্তি বলছেন, তিনি ওই মানুষটিকে সাহায্য করতে সবকিছু করবেন—কেবল তার পিঠ থেকে নেমে আসা ছাড়া।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে এমন নেতৃত্বকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে, যারা মানুষের কল্যাণের কথা বললেও নিজেদের সিদ্ধান্তের পরিণতি সাধারণ মানুষ ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়।
শিল্পী গালশিয়টের মতে, ট্রাম্পের নীতির কারণে পরিবেশ সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উদ্যোগসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও প্রচেষ্টার প্রতি ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও শিল্পকর্মটিতে সমালোচনা করা হয়েছে।
মূর্তির নগ্ন অবয়বের ধারণাটি এসেছে ডেনিশ লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত রূপকথা দ্য এম্পেররস নিউ ক্লদস থেকে। ওই গল্পে এক অহংকারী সম্রাট নগ্ন অবস্থায় ঘুরে বেড়ালেও আশপাশের মানুষ তাঁকে অসাধারণ পোশাকে সজ্জিত বলে ভান করে।
গালশিয়টের ভাষায়, স্বৈরাচারী শাসকেরা সাধারণত চান না যে মানুষ তাঁদের নিয়ে হাসাহাসি করুক। তাঁর শিল্পকর্মে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ব্যঙ্গ করার বিষয়টি এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শনীটির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ডেনমার্কের বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘দ্য লেফট’-এর সদস্য পার ক্লাউসেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ক্ষমতার ব্যবহার এবং ট্রাম্পের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ইউরোপ কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করাই তাঁর উদ্দেশ্য।
তবে প্রদর্শনীটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা অনুমোদনের প্রতিফলন নয়।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবং ব্রাজিলের বেলেমে জাতিসংঘের কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ প্রদর্শন করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা করে কোপেনহেগেনে আয়োজিত বিক্ষোভেও এটি প্রদর্শিত হয়।
প্রদর্শনীতে মূল মূর্তির পাশাপাশি ছোট আকারের ত্রিমাত্রিক প্রিন্ট করা সংস্করণও রাখা হয়েছে। শিল্পীর দাবি, দর্শনার্থী ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কর্মীদের মধ্যে বিতরণের জন্য তিনি প্রায় ২০ হাজার ক্ষুদ্র সংস্করণ তৈরি করেছেন। এগুলোকে ‘প্রতিবাদের স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ট্রাসবুর্গে প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চালু থাকার কথা। পরবর্তী সময়ে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনেও মূর্তিটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে শিল্পীর।
সূত্র: তাসনিম নিউজ, ৯ অক্টোবর ২০২৬
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ধ্বংসাবশেষে কিন্ডারগার্টেন-চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত
আর কখনো লেখা হবে না, 'তোমার চিঠি অনেক দিন পাই না'
তুর্কমেনিস্তানে পুতিন-পেজেশকিয়ান বৈঠক
তুর্কমেনিস্তান কেন গেলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট