ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যে বারবার বাধা দিয়েছেন যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর বার্ষিক সম্মেলনে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে নিরাপত্তাকর্মীরা জোর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন। খবর আনাদোলু এজেন্সি ও ডিফেন্স নিউজের।
বিক্ষোভকারীরা হেগসেথকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দেন। তাঁদের একজন চিৎকার করে বলেন, ‘আপনি যোদ্ধা নন, আপনি কাপুরুষ।’ আরেকজন গাজায় শিশুদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। একজন বিক্ষোভকারী ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বার্ষিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী—অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ইউএস আর্মির (এইউএসএ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় হেগসেথের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা, ড্রোন ও রোবটিক প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সামরিক কাজে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার।
বিক্ষোভকারীদের প্রথম দিকের বাধায় হেগসেথ কৌতুকপূর্ণ প্রতিক্রিয়া জানান। এক নারী বিক্ষোভকারী তাঁকে উদ্দেশ করে চিৎকার করলে তিনি বলেন, ‘তিনি তো আমাকে বেশ পছন্দ করেন।’ তবে একের পর এক প্রতিবাদ চলতে থাকলে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, এখানে একটি কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।’
ডিফেন্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টার আলোচনার শুরুর দিকে ছয়জন বিক্ষোভকারী বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যে বাধা দেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নেন। তাঁদের প্রতিবাদের কারণে আলোচনা কয়েক দফা বিঘ্নিত হলেও পরে প্যানেল সদস্যরা বক্তব্য চালিয়ে যান।
এদিকে হেগসেথ তাঁর বক্তব্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
সম্মেলন আয়োজক এইউএসএ এক বিবৃতিতে জানায়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার মৌলিক অধিকার। তবে সম্মেলনে অংশ নিতে নিবন্ধনকারী ব্যক্তিদের আয়োজকদের আচরণবিধি মেনে চলতে হয়। আলোচনার মধ্যে বারবার বাধা সৃষ্টি করাকে ওই আচরণবিধির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি।
ইরান যুদ্ধ এবং গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের এ ঘটনা সামনে এলো।
সৌদি-হুথি সংঘাতের নেপথ্যে কী?
ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের