ইবোলা সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে উগান্ডা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রী ক্রিস বারিওমুনসি জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে এমন উগান্ডার নাগরিকেরা দেশে ফিরলে তাদের ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।
গত জুলাইয়ে সর্বশেষ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অবসান ঘোষণা করে উগান্ডা। এরপর দেশটিকে ইবোলামুক্ত বলা হলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নতুন করে। সম্প্রতি উগান্ডা হয়ে যাওয়া দুজনের শরীরে পরে কেনিয়া ও নাইজেরিয়ায় ইবোলা শনাক্ত হয়।
নাইজেরিয়ায় শনাক্ত রোগীকে নিয়ে তদন্ত করছে উগান্ডা। ৪২ বছর বয়সী ওই নারী সুইজারল্যান্ডের এক কূটনীতিকের স্ত্রী। নাইজেরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর তিনি আদ্দিস আবাবা হয়ে উগান্ডা থেকে নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় ফেরেন। বর্তমানে তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ৫৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে জিনগত বিশ্লেষণ, ভ্রমণের তথ্য, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচল খতিয়ে দেখছে উগান্ডার কর্মকর্তারা। সুইজারল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ওই নারী উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে উগান্ডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারিওমুনসি এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, সুইজারল্যান্ড আগেভাগেই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
বারিওমুনসির দাবি, ওই নারীর পশ্চিম নাইল অঞ্চলের কয়েকজন আত্মীয় কামপালার উপশহর ক্যানসাঙ্গায় তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। ওই আত্মীয়দের কঙ্গো সফরের ইতিহাস রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই নারী কঙ্গোতে যাননি এমন প্রমাণ সুইজারল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের কাছে কী আছে? তার ভাষায়, বিষয়টি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নয়, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করা উচিত।
অন্যদিকে, কেনিয়ায় শনাক্ত ইবোলার প্রথম রোগী কঙ্গো থেকে উগান্ডায় এসেছিলেন। পরে গত ৩ অক্টোবর এনতেব্বে বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে নাইরোবি যান তিনি। এর দুই দিন পর তার মৃত্যু হয়। উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ডায়ানা আতওয়াইন সংবাদ সম্মেলনে জানান, কেনিয়া ও নাইজেরিয়ায় শনাক্ত দুই রোগী একই দিনে উগান্ডার একই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছিলেন। তবে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের মধ্যে সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারিওমুনসি আরও জানান, কেনিয়ায় শনাক্ত ইবোলা রোগীর সংস্পর্শে আসা ৬০ জনের ২১ দিনের পর্যবেক্ষণকাল শেষ হয়েছে। তাদের সবাইকে পর্যবেক্ষণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এনতেব্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং স্থলসীমান্তের সব প্রবেশপথে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। আকাশপথ, স্থলপথ কিংবা জলপথে উগান্ডায় প্রবেশ করতে ইচ্ছুক সব যাত্রীকে যাত্রীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের ফরম পূরণ করতে হবে।
নাইজেরিয়ায় শনাক্ত একমাত্র নিশ্চিত ইবোলা রোগীর ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেটির সঙ্গে কেনিয়ার প্রথম শনাক্ত রোগীর শরীরে পাওয়া ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। তবে কেনিয়ার ওই রোগী নাইজেরিয়ায় গিয়েছিলেন কিংবা নাইজেরিয়ার রোগীর সঙ্গে তার সরাসরি কোনো যোগসূত্র ছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ। কঙ্গোর সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে উগান্ডার। কঙ্গোতেই এবারের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সূত্রপাত। এর আগেও একাধিকবার ইবোলা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে উগান্ডাকে।
এদিকে, রোববার রাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানান, কঙ্গোর উত্তরাঞ্চলীয় বাফওয়াসেন্দে শহরে ইবোলা সংক্রমণের সতর্কবার্তায় সাড়া দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এতে এক নার্স নিহত এবং আরেক স্বাস্থ্যকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টেড্রোস বলেন, শনিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাণঘাতী রোগটি থেকে জনগণকে সুরক্ষায় নিয়োজিত প্রত্যেক কর্মীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স
ইউরোপে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপের শীর্ষে গ্রিস
বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের
আসামের বাঙালি মুসলমানদের লড়াই মূলত বাংলাদেশের লড়াই: নাহিদ ইসলাম
৪০ ইরানি নাবিককে উদ্ধার করলো শ্রীলঙ্কা