সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন নেতানিয়াহু, ঝুলে রইলো ইসরায়েল

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৫ এএম

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন।

অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে সক্ষম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রেকর্ড ১৯টি আসন জিতে নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো।

সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের কোটা পূরণ করতে উভয় পক্ষকেই চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে জোট সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে আদর্শিক ভিন্নতা এবং নিজ নিজ রাজনৈতিক শর্তের কারণে নেতানিয়াহু বা আইজেনকোট—কারোর জন্যই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সহজ নয়। মধ্যপন্থী রাজনীতিক ইয়ার লাপিদ সামাজিক মাধ্যমে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

ক্ষমতার সমীকরণে বিরোধী জোট আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ৬৭টি আসনের শক্তিশালী সরকার গঠন করতে পারে। এমনকি আনুষ্ঠানিক জোটে না গিয়ে বাইরে থেকে সমর্থনেও তারা একটি সংখ্যালঘু সরকার টিকিয়ে রাখতে পারে।

তবে ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সঙ্গে হাত মেলানো ইহুদি নেতাদের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি। অন্যদিকে নেতানিয়াহু এ ধরনের সমীকরণকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

আইজেনকোটের সামনে আরেকটি বিকল্প হলো নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠন করা। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগে বিরোধী নেতারা তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক দরকষাকষির মাঝেই আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে বিনা প্রমাণে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় কাতার যুক্ত রয়েছে বলেও তারা দাবি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে দেশটির নির্বাচন কমিশন ও প্রধান বিচারপতি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছেন। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো গোপনীয় তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা 'শিন বেত'-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগামী বুধবারে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের কাছে অফিসিয়াল ফলাফল জমা দেওয়া হবে এবং ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

যদি কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারে, তবে ইসরাইলকে আবারও নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। আর সেই সময় পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুই দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত