ইরানের আবেদান দ্বীপ থেকে ইরাকি বাথিস্ট বাহিনীকে বিতাড়িত করার ঐতিহাসিক অভিযান ‘অপারেশন জুলফাকারি’র বার্ষিকী উপলক্ষে বার্তা দিয়েছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। ১৯৮০ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরুর মাত্র ৪০ দিনের মাথায় পরিচালিত ওই অভিযানকে ইরানের আট বছরব্যাপী যুদ্ধের প্রথম বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বার্তায় খামেনি বলেন, জনগণের সতর্কতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐশী প্রেরণা, স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর আত্মত্যাগ এবং তাদের সাহসী দৃঢ়তার পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বীরত্ব ছিল সশস্ত্র আগ্রাসী শত্রুকে পরাজিত করার প্রধান শক্তি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ আবান বা ৩১ অক্টোবর অপারেশন জুলফাকারির বার্ষিকী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বার্তায় অভিযানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দেশের ওপর আক্রমণকারী শত্রুদের মোকাবিলায় এ ঘটনা থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন।
বার্তায় খামেনি বলেন, ১৯৮০ সালে ইরাকের তৎকালীন শাসক দেশটির জনগণের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতি খুব একটা গুরুত্ব দিতেন না। ইরানের জনগণের সঙ্গে ইরাকিদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ভাঙতে বিভিন্ন স্লোগান ও ভিত্তিহীন দাবি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, তৎকালীন বাথিস্ট বাহিনীও বর্তমান সময়ের শত্রুদের মতো আগ্রাসন, দখল ও অবরোধের কৌশল নিয়েছিল। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণের সতর্কতা, আত্মত্যাগী বাহিনীর নিষ্ঠা, সাহসী প্রতিরোধ এবং সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির যোদ্ধাদের বীরত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
খামেনি জানান, সে সময় ইরানের একজন সাধারণ কিন্তু সাহসী শ্রমিক শত্রুর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করেছিলেন। পরে স্থানীয় মসজিদের সদস্য ও সাধারণ মানুষের একটি দল সীমিত সামরিক সরঞ্জাম নিয়েই প্রতিরোধে অংশ নেয়। তাদের নেতৃত্ব দেন আবেদানের তৎকালীন জুমার নামাজের ইমাম, প্রয়াত আয়াতুল্লাহ জামি।
তিনি বলেন, জনগণের এই প্রতিরোধের মুখে উন্নত অস্ত্রে সজ্জিত আগ্রাসী বাহিনীও তাদের আক্রমণের জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে ইরানের উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দেশের সীমান্ত রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের তৎকালীন নেতা ইমাম খোমেনির নির্দেশনায় আবেদানের অবরোধ পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়।
বর্তমান যুদ্ধেও একই চেতনার আহ্বান
বার্তায় খামেনি বলেন, অতীতের সেই সতর্কতা, বিশ্বাস, প্রেরণা, সংকল্প, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তাই আজও ইরানের জনগণকে শক্তি জোগাচ্ছে। তাঁর দাবি, আল্লাহর অনুগ্রহ এবং ইমাম মাহদির সজাগ তত্ত্বাবধানে এই চেতনা নিপীড়িত হলেও শক্তিশালী ইরানি জাতিকে সহায়তা করছে।
তিনি আরও বলেন, এই মনোবল ও ঐক্য বজায় রেখেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য, অপরাধ ও আগ্রাসনের মোকাবিলা করবে এবং ‘তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে’ বিজয় অর্জন করবে।
বার্তার শেষে পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ১২৬ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজয় তো কেবল পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।’
সূত্র: ইরনা
ইরানে হামলার প্রস্তুতির মধ্যেই নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের ফোনালাপ
ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিক্ষোভকালে লন্ডনে ১৩৯ জন গ্রেপ্তার
দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহারে শরীরের কী ক্ষতি হয়?