কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক জাহাজে হামলা হলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, যা কোনো পক্ষের স্বার্থেই সহায়ক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
শনিবার ইস্তাম্বুলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার ইস্তাম্বুলে পৌঁছান জেলেনস্কি। বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরদার হওয়া উদ্যোগগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান এরদোয়ান।
তিনি বলেন, কৃষ্ণসাগরে নৌ-নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তুরস্ক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব কৃষ্ণসাগরেও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
এরদোয়ান বলেন, ‘যে পক্ষই এসব হামলা চালাক কিংবা যে যুক্তিই দেখাক না কেন, কোনো অবস্থাতেই আমরা এ ধরনের হামলা মেনে নিতে পারি না।’
তিনি উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। কৃষ্ণসাগরে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
জেলেনস্কিকে আবারও তুরস্কে স্বাগত জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ এখনো থামেনি। যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে প্রাণহানির ঘটনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগসহ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের উদ্যোগ নতুন গতি পাওয়ায় স্বাগত জানান এরদোয়ান।
ন্যায়সংগত শান্তিতে কোনো পক্ষের পরাজয় নেই
এরদোয়ান বলেন, তুরস্কের আয়োজনে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনাগুলো দেখিয়েছে, কূটনীতির মাধ্যমে বাস্তব ফল অর্জন সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো মনে করি, ন্যায়সংগত শান্তিতে কোনো পক্ষেরই পরাজিত হওয়ার সুযোগ নেই।’
ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাতে তুরস্ক প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
ইউক্রেনের সঙ্গে ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যের পথে অগ্রগতি
ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নতুন গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন এরদোয়ান। কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে রাশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা চালানোর পরিকল্পনার কথা জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
এরদোয়ান বলেন, ‘আজ আমরা আবারও আমাদের কৌশলগত অংশীদার ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
তিনি জানান, ২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি গত ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এরদোয়ানের ভাষ্য, চুক্তিটি তুরস্ক ও ইউক্রেনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যের পথে দুই দেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও যেসব তুর্কি কোম্পানি ইউক্রেনে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে, দেশটির পুনর্গঠনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
গাজীপুরে পুলিশ বক্সে আগুন
শত্রুর হামলার আলামত নিশ্চিত হলেই পাল্টা পদক্ষেপ: ইরানি সেনাপ্রধান
লাইভে রাশেদ খাঁনের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনা নিয়ে যা বললেন পাটওয়ারী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না: রেজায়ি