ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র পাপুয়া নিউগিনি। রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। শনিবার (৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৪ মিনিটে ঘটেছে এই ভূকম্পন। খবর রয়টার্স’র
প্রথম ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর ৩০ মিনিট ধরে অন্তত ৪টি ‘আফটার শক’ হয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।
ইউরোপভিত্তিক ভূমিকম্প গবেষণা সংস্থা ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা পৃথক এক বিবৃতিতে বলেছে যে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯।
তবে উভয় সংস্থার নিজ নিজ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যে ভূমিকম্পের উত্তপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল দেশটির ওয়েস্ট নিউ ব্রিটেন প্রদেশের রাজধানী কিম্বে শহরের ১৯৪ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত পোমিও জেলার ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূকম্পনের পর পর সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল ইউএসজিএস, পরে তা প্রত্যাহার করেছে সংস্থাটি।
ভূমিকম্পে পাপুয়া নিউগিনিতে এখনও নিহত কিংবা আহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের এপিসেন্টার পোমিও জেলায় বসবাস করেন রাফায়েল সিসলেরিয়া। সেখানে সমুদ্র উপকূলের কাছে একটি রিসোর্ট চালান তিনি।
এএফপিকে রাফায়েল বলেন, ‘যখন ভূমিকম্প ঘটে, সে সময় শহরের বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিল। কম্পণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘর ছেড়ে সড়কে বের হয়ে আসে। সবাই খুব ভয় পেয়েছিল, কিন্তু এখন ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো নিহত বা আহতের সংবাদ পাইনি।’
পাপুয়া নিউগিনিতে অবশ্য ভূমিকম্প বিরল কোনো দুর্যোগ নয়। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ বা ‘আগ্নেয় মেখলা’ টেকটনিক প্লেটের ওপর অবস্থানই দেশটিতে ভূমিকম্পের প্রধান কারণ।

