জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সম্প্রতি পর্যটকদের ওপর হওয়া নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার পর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ময়দানে উত্তেজনা তুঙ্গে। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। খবর: এনডিটিভি’র।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানান, পুতিন মোদিকে ফোন করে পেহেলগামের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই বর্বর হামলার দায়ীদের ও তাদের সমর্থকদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। পুতিন ভারতের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দিয়েছেন।
উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি পুতিনকে আসন্ন বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
এদিকে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, কথায় বা বিবৃতিতে নয়, প্রমাণে বোঝা যাবে পাকিস্তান জড়িত কি না। তিনি হামলার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে রাশিয়ার মোদি-পুতিন সংলাপ পাকিস্তানের সেই দাবি কার্যত খণ্ডন করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের কূটনৈতিক মহলে পুতিনের বার্তাকে বিশেষভাবে স্বাগত জানানো হচ্ছে, কারণ এটি পাকিস্তানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে, যা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই পদক্ষেপ কেবল পাকিস্তানের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যানই নয়, বরং ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। একদিকে যখন পাকিস্তান আন্তর্জাতিক তদন্ত চায়, অন্যদিকে রাশিয়া স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-কৌশলগত সমীকরণে বড় তাৎপর্য বহন করছে।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে টানা ১১ রাত ধরে গোলাগুলি