ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র এবং অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘খার্গ দ্বীপে’ (Kharg Island) ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরানের দাবি, দ্বীপে অন্তত ১৫টি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটলেও তেল শোধনাগার বা রপ্তানি অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সফলভাবে খার্গ দ্বীপে বোমাবর্ষণ করেছে। তবে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, তেলের অবকাঠামো বা শোধনাগারগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিতে এই দ্বীপটি সবচেয়ে মোক্ষম জায়গা হলেও, বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দামের কথা মাথায় রেখেই হয়তো তেল স্থাপনায় সরাসরি আঘাত করেনি ওয়াশিংটন।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ জানিয়েছে, হামলার সময় পুরো দ্বীপে ১৫টিরও বেশি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তারা নিশ্চিত করেছে যে, তেল খাতের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আইআরজিসি-র মতে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো মূলত খার্গ দ্বীপের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি নৌ-ঘাঁটি, বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার এবং একটি হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের টার্মিনালগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। একজন বিশ্লেষক জানিয়েছেন, এই দ্বীপের তেল স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে। তবে খার্গ দ্বীপে এই প্রথম বড় ধরণের কোনো অভিযান চালানো হলো। ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত করা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি গুড়িয়ে দেবে।

