ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হলে পুরো পৃথিবী উড়ে যাবে ও ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়বে, এমন কঠোর ও শঙ্কাজনক সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বলেন, বিষয়টি কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও এটি একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ইরান পারমাণবিক চুক্তি-এর তীব্র সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, এটি ছিল 'এ যাবৎকালের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি', যা ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি নয়, বরং স্বল্পমেয়াদেই পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই চুক্তির কাঠামোই মূলত ইরানকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সে ক্ষেত্রে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এবং এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথে এগিয়ে যেতে পারত যা পুরো অঞ্চলকে এক নজিরবিহীন সংকটে ঠেলে দিত।
তবে ইরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের অবস্থান হলো, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেনি। এই দ্বিমুখী অবস্থানই বর্তমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটলে গ্যাসের দাম 'বিপুলভাবে' কমে আসবে এবং বিদ্যুতের মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তার মতে, এই পরিবর্তন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তি বয়ে আনতে পারে এবং জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে, এমন তথ্য পাওয়ার পর তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-কে চিঠি লিখে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, জবাবে শি জিনপিং জানিয়েছেন, চীন এ ধরনের কোনো কার্যক্রমে জড়িত নয়। সূত্র: বিবিসি
যুদ্ধ উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন রাজা চার্লস
দেড় বছর বন্ধ থাকবে বিলাসবহুল হোটেল ‘বুর্জ আল আরব’
ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে: পেজেশকিয়ান