ইরান যদি প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে সই করতে রাজি না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী অবিলম্বে দেশটিতে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পেন্টাগনে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই কড়া বার্তা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ‘ইরানের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। তারা হয় একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বেছে নিতে পারে, অথবা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ওপর অবরোধ ও বোমা বর্ষণের ঝুঁকি নিতে পারে। পছন্দ তাদের।’
তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিটি সামরিক গতিবিধি মার্কিন ড্রোন ও স্যাটেলাইটের নজরদারিতে রয়েছে।
তিনি সরাসরি ইরানি নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা আপনাদের বাকি থাকা মিসাইল লাঞ্চারগুলো মাটির নিচ থেকে খুঁড়ে বের করছেন ঠিকই, কিন্তু আপনাদের মনে রাখা উচিত-এগুলো নতুন করে তৈরি বা প্রতিস্থাপন করার ক্ষমতা আপনাদের নেই। আমাদের সাথে লড়াইটা কোনোভাবেই সমানে-সমান নয়।’
সমুদ্রপথে ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে হেগসেথ দাবি করেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন নৌবাহিনী। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ইরানের আর কোনো কার্যকর নৌবাহিনী অবশিষ্ট নেই, তাই ওই আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতে। ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য না করা পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে।’
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী আক্ষরিক অর্থেই যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরণের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।’
তিনি জানান, শুধু ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা নয়, বরং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানগামী যেকোনো জাহাজ বা ইরানকে সহায়তা প্রদানকারী নৌযানের পিছু নেবে মার্কিন নৌবাহিনী।
জেনারেল কেইন আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি কেউ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে তবে শক্তি প্রয়োগ করা হবে। তিনি দাবি করেন, অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩টি সন্দেহভাজন জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
‘ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী’
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে চায় ইরান, দাবি ট্রাম্পের