সোনা কেনা বর্জন ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ডাক মোদির

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতার ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মুখে ভারতীয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে দেশবাসীর প্রতি এক জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি জনগণকে বিলাসিতা বর্জন ও বিশেষ সাশ্রয়ী জীবনযাপনের অনুরোধ করেছেন।

ইরান কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য যে, ভারতের মোট এলএনজি (LNG) আমদানির ৯০ শতাংশই এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে আসত। জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশের বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা পুরো অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি সংকট উত্তরণের বার্তায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে:

সোনা কেনা স্থগিত: আগামী এক বছর জনগণকে নতুন করে সোনা না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়।

জ্বালানি সাশ্রয়: ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে জ্বালানি খরচ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বলেছেন।

ওয়ার্ক ফ্রম হোম: যানজট ও জ্বালানি খরচ কমাতে আবারও 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বা বাসা থেকে অফিসের কাজ করার সংস্কৃতি চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।

ব্যয় সংকোচন: অপ্রয়োজনীয় বা বিলাসদ্রব্য কেনাকাটার (Discretionary spending) ক্ষেত্রে দেশবাসীকে পুনরায় চিন্তাভাবনা করতে বলেছেন।

জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি খাদ্য ও কৃষি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতেও জোর দিয়েছেন মোদি। তিনি জনগণকে ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমানোর অনুরোধ করেছেন। এছাড়া কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প পথ খুঁজে নেন।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ভারত যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘দেশপ্রেমমূলক সাশ্রয়’ নীতি সেই সংকট মোকাবিলারই একটি আগাম সতর্কতামূলক চেষ্টা। সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন