ইরানের হরমুজ কর্তৃপক্ষের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ন্ত্রণে ইরানের সদ্য গঠিত ‘পার্সিয়ান গাল্ফ স্ট্রেট অথরিটি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে কেবল ইরানই নয়, বরং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও এখন চরম উভয়সংকটের মুখে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালি এবং এর আশেপাশের এলাকায় একটি নতুন সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা বা নিয়ম সমন্বয় করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইরানের এই নতুন সংস্থাকে। কোন জাহাজ কোন লেন বা পথ দিয়ে চলাচল করবে, তা নির্ধারণ করার দায়িত্বও এই কর্তৃপক্ষের।

তাদের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পার হতে যাওয়া প্রতিটি জাহাজকে তাদের যাত্রার উৎস, বহনকারী পণ্য এবং চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) অগ্রিম তথ্য দিতে হবে। এর পাশাপাশি, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টোল কিংবা পরিবেশ সুরক্ষা ফি-র নামে এক ধরনের শুল্ক আদায়ের পরিকল্পনাও করেছে এই সংস্থাটি।

মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর সামনে এখন দুটি বড় সংকট দেখা দিয়েছে:

১. ইরানের নিয়ম অমান্য করার ঝুঁকি: জাহাজগুলো যদি ইরানের ‘পার্সিয়ান গাল্ফ স্ট্রেট অথরিটি’র সাথে যোগাযোগ বা তথ্য শেয়ার না করে, তবে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে না।

২. মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকি: আবার জাহাজগুলো যদি পথ পার হওয়ার জন্য ইরানের এই নতুন কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে চলে এবং তাদের সাথে যোগাযোগ বা তথ্য আদান-প্রদান করে, তবে তা সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই বাণিজ্যিক জলপথে এমন দ্বিমুখী সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নতুন করে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

YA
আরও পড়ুন