ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া ১১টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, পবিত্র নগরী মদিনা, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে ড্রোনগুলো প্রতিহত করা হয়। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান শহরের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে।
সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান।
জোটের বিবৃতি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া দুটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়। এর আগে রিয়াদ ও মদিনার আকাশে চারটি, রিয়াদের আকাশে আরও একটি এবং পূর্বাঞ্চলে চারটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানায় জোট।
তবে ড্রোনগুলো ঠিক কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, কিংবা সেগুলো প্রতিহত করার ঘটনায় কোনো স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—বিবৃতিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগের দিন বুধবারও সাতটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছিল জোট। এর মধ্যে একটি দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল এবং বাকি ছয়টি মদিনা ও পূর্বাঞ্চলের আকাশে ধ্বংস করা হয়।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সর্বশেষ ঘোষণার এক দিন আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে হামলার ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার পর আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দুজন নিহত হন। অন্যদিকে দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
তবে এসব হামলার ধরন, দায়ী পক্ষ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতির বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সর্বশেষ ঘোষণাগুলো এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জুলাই থেকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের লড়াইও নতুন করে তীব্র হয়েছে।
২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির আরও কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনাগুলো সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এসব হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ধারণে আরও তথ্য প্রয়োজন।
ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫১২ হুথি যোদ্ধা নিহত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ১০ ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ