ট্রাম্পের নৌ-বহর পাঠানোর জবাবে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপকূলে যুদ্ধজাহাজের বিশাল এক ‘আর্মাডা’ বা নৌ-বহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের ‘আঙুল এখন বন্দুকের ট্রিগারে’।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে গত বছরের জুন মাসে সংঘটিত ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেন। 

পাকপৌর বলেন, ‘আইআরজিসি যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি প্রস্তুত এবং আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।’

সুইজারল্যান্ডের দাভোস থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জাস্ট ইন কেস ব্যবহারের জন্য একটি বিশাল নৌ-বহর ইরানের দিকে পাঠিয়েছি। আমি কোনো সংঘাত চাই না, তবে আমরা তাদের ওপর খুব কড়া নজর রাখছি।’ ট্রাম্পের ইঙ্গিত, ইরান সংলাপে বসতে আগ্রহী হলেও তিনি সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা রাখছেন।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেশটিকে অনেকটা স্থবির করে দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে নজিরবিহীন ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ বা ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরান সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যে ব্যাপক গরমিল দেখা দিয়েছে:

সরকারি ভাষ্য: ইরান কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২,৪২৭ জনকে তারা ‘শহীদ’ (নিরাপত্তা রক্ষী বা নির্দোষ পথচারী) হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মানবাধিকার সংস্থা: ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (IHR) অন্তত ৩,৪২৮ জন নিহতের তথ্য যাচাই করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) বলছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৪,৯০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ২৬,৫৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি কিছু অধিকারকর্মী দাবি করছেন, নিহতের সংখ্যা ২০,০০০ পার হতে পারে।

ইরানের জয়েন্ট কমান্ড সদর দপ্তরের জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সকল ঘাঁটি ও স্বার্থ ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘কাপুরুষোচিত প্রতিশোধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সব মিলিয়ে পারমাণবিক ইস্যু, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের এই ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে।

DR/AHA
আরও পড়ুন