মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী তেহরানসহ কারাজ, ইসফাহান এবং তাবরিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে মিত্রশক্তি। তেহরানের আকাশ এখন গতরাতের হামলার কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সংঘাত কমার পরিবর্তে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে অন্তত ১৫টি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তেহরান উভয়েই জানিয়েছে যে তেল স্থাপনাগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, তবে বিপুল সংখ্যক বিস্ফোরণ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) তাদের অত্যাধুনিক 'হায়দার' (Heidar) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। তারা এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েলি মূল ভূখণ্ড এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। এদিকে, যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেই জাপান থেকে ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা সরাসরি ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যাকে প্রথম 'গ্রাউন্ড ট্রুপ' মোতায়েন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট রোধে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের তেল সরবরাহ সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তার 'এনার্জি ডমিন্যান্স' নীতির মাধ্যমে বিকল্প সরবরাহের আশ্বাস দিচ্ছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও ইতালি এখনো কূটনৈতিকভাবে হরমুজ প্রণালীকে সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করছে যে, কোনো পক্ষই পিছু হটতে রাজি নয় এবং সামনে আরও ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।

