সংবিধান নাকি ট্রাম্পের বন্ধুত্ব? কঠিন পরীক্ষার মুখে জাপান

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে এক চমৎকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কিন্তু চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সেই গভীর বন্ধুত্বকে এক চরম পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সানায়ে তাকাইচির প্রথম সফরে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে জাপানের সরাসরি সামরিক সহযোগিতা দাবি করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এখন জাপানের দিকে ঝুঁকছেন ট্রাম্প। তিনি চান, জাপান তাদের উন্নত ‘মাইনসুইপার’ (মাইন অপসারণকারী জাহাজ) এবং নৌবাহিনী পাঠিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে সহায়তা করুক। ট্রাম্পের যুক্তি হলো, জাপান বছরের পর বছর আমেরিকার কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সুবিধা নিয়েছে এবং দেশটির ৯৫ শতাংশ জ্বালানি তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, তাই এই জলপথ নিরাপদ রাখা জাপানেরও দায়িত্ব।

ট্রাম্পের এই দাবি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে এক বিশাল সংকটে ফেলেছে। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধানের ‘অনুচ্ছেদ ৯’ অনুযায়ী দেশটি কোনো যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে পারে না। এছাড়া জাপানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে তীব্র জনমত রয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যম ‘আসাহি শিম্বুন’-এর এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৯ শতাংশ জাপানি নাগরিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে আমেরিকার পদক্ষেপকে সমর্থন করেন।

সানায়ে তাকাইচি একজন কট্টর রক্ষণশীল নেতা হলেও তিনি আইনের বেড়াজালে বন্দি। তিনি ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, জাপানের নৌবাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো ‘আইনগতভাবে কঠিন’। তবে তিনি একদম ‘না’ও বলতে পারছেন না, কারণ চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবিলায় ট্রাম্পের সহায়তা জাপানের জন্য অপরিহার্য।

জাপানের জন্য এই সংকট দ্বিমুখী। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা জাপানের অর্থনীতির জন্য একটি দুর্বল দিক। এর আগে ১৯৯১ সালে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের শেষে জাপান মাইনসুইপার পাঠিয়েছিল, কিন্তু সেটি ছিল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর। বর্তমান চলমান যুদ্ধের মধ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে জাপানের জন্য ঐতিহাসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হোয়াইট হাউসের মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজের বৈঠকে ট্রাম্প তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে জাপানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবেন। র্যান্ড কর্পোরেশনের বিশেষজ্ঞ জেফরি হর্নং বলেন, ‘তাকাইচি যদি গিয়ে বলেন যে আমরা এই যুদ্ধ নিয়ে চিন্তিত, তবে ট্রাম্প হয়তো পাল্টা জিজ্ঞেস করবেন- ‘তাহলে আপনারা কী করছেন?’ এই প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর জাপানের কাছে নেই।’

বৃহস্পতিবারের এই শীর্ষ বৈঠকই নির্ধারণ করবে ট্রাম্প-তাকাইচি বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে এশীয় শক্তির ভূমিকার গতিপথ।

DR/SN
আরও পড়ুন