হরমুজ প্রণালির নতুন সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা ঘোষণা ইরানের

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর নিজেদের আধিপত্য আরও জোরালো করতে নতুন সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা (Maritime Control Zone) ঘোষণা করেছে ইরান। 

সোমবার (৪ মে) দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এই সংক্রান্ত একটি নতুন ভৌগোলিক মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে প্রণালিটির একটি বিশাল অংশকে নিজেদের সরাসরি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতাভুক্ত বলে দাবি করেছে তেহরান।

প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, ইরানের নতুন এই নিয়ন্ত্রিত এলাকার পশ্চিম সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছে ইরানের ‘কেশম দ্বীপ’-এর পশ্চিম প্রান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘উম্ম আল কোয়াইন’ আমিরাত পর্যন্ত একটি কাল্পনিক রেখা বরাবর। অন্যদিকে, পূর্ব দিকের সীমানা টানা হয়েছে ইরানের ‘মাউন্ট মোবারক’ থেকে আরব আমিরাতের ‘ফুজাইরাহ’ পর্যন্ত। অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালির প্রবেশ ও বহির্গমন পথের এক বিশাল অংশ এখন ইরানের সরাসরি রাডার ও মিসাইল রেঞ্জের আওতায় চলে এসেছে।

এই ঘোষণার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের ‘খাতামুল আনাম্বিয়া (স.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এখন সম্পূর্ণভাবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে। এই জলপথ দিয়ে যেকোনো জাহাজ বা নৌযানের চলাচল অবশ্যই ইরানের সামরিক কমান্ডের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে।’

আমেরিকাকে সরাসরি টার্গেট করে মেজর জেনারেল আবদোল্লাহি বলেন, ‘কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী যদি আমাদের এই নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছে আসার চেষ্টা করে কিংবা অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে, তবে তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে। আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা একচুলও ছাড় দেব না।’

ইরানের এই নতুন মানচিত্র প্রকাশ মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের একটি কড়া জবাব। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের আধিপত্য ফেরাতে চাইছে, সেখানে তেহরান নতুন মানচিত্রের মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণকে আইনত ও সামরিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল নিয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হলো।

FJ
আরও পড়ুন