মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি এখন প্রায় জনশূন্য। গত ২০ দিনে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে ৯৫ শতাংশ কমে গেছে বলে এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে বিবিসি ভেরিফাই।
তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের শুরু থেকে শুক্রবার (২০ মার্চ) পর্যন্ত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে মাত্র ৯৯টি জাহাজ চলাচল করেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ১৩৮টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করত, সেখানে এখন প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ৬টি জাহাজ যাতায়াত করছে।
শিপিং বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য বলছে, চলতি মাসে পার হওয়া ৯৯টি জাহাজের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সঙ্গেই ইরানের সরাসরি বা পরোক্ষ বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপত্তার অভাবে এই রুটটি এড়িয়ে চলছে।
ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতের জেরে এই সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজে মাঝেমধ্যেই ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। জীবন ও মালের ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এই রুট ব্যবহারের সাহস পাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
তবে এখনও কিছু জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী জাহাজ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সীমিত পরিসরে চলাচল করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর মন্দার মুখে পড়বে।
মার্কিনিরা ভাবছে তারা পুরো বিশ্বের মালিক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিলো পেন্টাগন
