শত্রু জাহাজ বাদে হরমুজ উন্মুক্ত সবার জন্য

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার চরম আল্টিমেটামের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে নতুন অবস্থান পরিষ্কার করল ইরান। তেহরান জানিয়েছে, তাদের ‘শত্রু দেশগুলোর’ জাহাজ বাদে বিশ্বের অন্য সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই জলপথ উন্মুক্ত রয়েছে।

রোববার (২২ মার্চ) আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থায় (আইএমও) নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আলি মৌসাভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলি মৌসাভি জানান, যেসব জাহাজের সঙ্গে ইরানের শত্রুদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তারা সহজেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সব জাহাজকে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে। অর্থাৎ, জাহাজ প্রবেশের আগে ইরানকে অবহিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

এর আগে শনিবার রাতে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে না দিলে ইরানের বড় বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই চরম উত্তেজনাকর বার্তার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইরান এই নমনীয় কিন্তু কৌশলী বার্তা দিল।

ইরানি কূটনীতিক মৌসাভি বলেন, ‘ইরান সবসময় কূটনীতিকে প্রাধান্য দেয়। তবে আলোচনার পরিবেশ তৈরির আগে ইরানের ওপর চলমান হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।’ তিনি বর্তমান সংকটের জন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনকেই দায়ী করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘শত্রু জাহাজ’ বাদে অন্যদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে ইরান মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে চাইছে, যাতে ট্রাম্পের হামলার যৌক্তিকতা কমে যায়। তবে ‘শত্রু’র সংজ্ঞা তেহরান কীভাবে নির্ধারণ করবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

NB/
আরও পড়ুন