দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চললেও পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার পারদ এখনো কমেনি। এবার ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা একটি অত্যাধুনিক ইসরায়েলি ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বুধবার (৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
এ ঘটনায় আইআরজিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যে-কোনো বিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে, সামরিক অভিযান চালাক বা না চালাক— তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিকও নিহত হন।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। এতে প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় এবং দেশের অভ্যন্তরে ঐক্য ও প্রতিরোধ আরও জোরদার হয় বলেও জানানো হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় পক্ষগুলো। এ সময় ইসলামাবাদে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে— এঅঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
৮ এপ্রিল ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানের জন্য ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বয়ে এনেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, এই আলোচনা সংঘাতের সমাপ্তি নয়; বরং কূটনৈতিক পর্যায়ে লড়াইয়ের একটি নতুন ধাপ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাসের অবস্থান বজায় থাকবে।
খোলার পথে হরমুজ প্রণালি, নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের
পেজেশকিয়ান-শেহবাজের ফোনালাপ, যে কথা হলো
