পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার জবাবে এবার পাল্টা আঘাত হেনেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে একঝাঁক রকেট নিক্ষেপ করেছে গোষ্ঠীটি।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘আমাদের দেশ ও সাধারণ জনগণের ওপর ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই পাল্টা জবাব এবং প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।’
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, লেবানন থেকে ছোড়া একটি রকেট তারা আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি স্থানে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। সেই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১১৬৫ জন আহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন যে এই যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সর্বত্র কার্যকর হবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে লেবানন এই চুক্তির আওতাভুক্ত নয়।
এই দ্বিমুখী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ ও অর্থহীন।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গত ২ মার্চ থেকে এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে লেবাননের হিজবুল্লাহ। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত দমনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চললেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চল এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৫৪
লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় নিহত ৮৯
লেবাননে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ‘অযৌক্তিক’: ইরান
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করছে
