লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় সৃষ্ট বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড়ে দেশটির আশ্রয় শিবিরগুলোতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) জানিয়েছে, লেবাননের অর্ধেকের বেশি সরকারি স্কুল এখন শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে, তবুও আশ্রয়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিউইয়র্কে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানান।
স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। বাস্তুচ্যুত মানুষের যে পরিমাণ সাহায্য ও আশ্রয়ের প্রয়োজন, তা জোগান দেওয়ার মতো সক্ষমতা এই মুহূর্তে নেই।’ তিনি জানান, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নির্দেশে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার জন ৬৮০টি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, দেশটির প্রায় ৫০ শতাংশ পাবলিক স্কুলকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। তবুও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।
নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লেবানন সীমান্ত পেরিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ সিরিয়ায় প্রবেশ করেছেন। এদের মধ্যে যেমন সিরীয় নাগরিক রয়েছেন (যারা আগে যুদ্ধের কারণে লেবাননে আশ্রয় নিয়েছিলেন), তেমনি অন্তত ৩৯ হাজার লেবানিজ নাগরিকও চরম অনিশ্চয়তার মুখে সিরিয়ায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ‘জহরানি নদী’ পর্যন্ত (সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে) সকল বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া রাজধানী বৈরুতের বড় একটি অংশকেও উচ্ছেদ আদেশের আওতায় আনা হয়েছে। ক্রমাগত এলাকা সম্প্রসারণের ফলে লেবানন এখন ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।
সূএ: আল-জাজিরা।
ইসলামাবাদ আলোচনার আগে তেহরান বিশ্লেষকের কড়া বার্তা
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের লড়বেন কমলা হ্যারিস
