ইসলামাবাদ আলোচনার আগে ইরানি বিশ্লেষকের কড়া বার্তা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া ইরান-মার্কিন শান্তি আলোচনাকে বৈশ্বিক মহল ‘আর-নয়তো-কখনও নয়’ হিসেবে দেখলেও সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এ নিয়ে চরম সংশয় ও অবিশ্বাস বিরাজ করছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফ্যাকাল্টি অফ ওয়ার্ল্ড স্টাডিজ’ এর সহযোগী অধ্যাপক ড. জোহরে খারাজমি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে এক লাইভ আপডেটে এ খবর জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা।

ড. খারাজমি বলেন, সাধারণ ইরানিরা এই আলোচনা নিয়ে মোটেও আশাবাদী নন, কারণ এখানে বিশ্বাসের কোনো জায়গা নেই। তারা মনে করে না যে কোনো ধরণের আলোচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্ররা নির্ভরযোগ্য। তিনি আরও যোগ করেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে আমেরিকা আলোচনাকে মূলত তাদের ‘আগ্রাসন ঢাকার হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করে।

বিশ্লেষক খারাজমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মেয়াদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েও পরে তা ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। এই ধরণের স্ববিরোধী আচরণের পর তাদের বিশ্বাস করা কঠিন।

তিনি মনে করেন, বর্তমানে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। পক্ষান্তরে ট্রাম্প এখন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে চরম কোণঠাসা ও মরিয়া হয়ে আছেন, যা ইরান জানে।

ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার অন্যতম শর্ত হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি সরাসরি মার্কিন চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান এই অধ্যাপক। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল সবসময়ই এই অঞ্চলে শান্তি বা যুদ্ধবিরতির সুযোগ নস্যাৎ করতে পছন্দ করে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন তাদের মিত্রকে নিয়ন্ত্রণে কতটা সক্ষম।

ইরানের অর্থনৈতিক দাবিগুলো যেমন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায় এগুলোকে ‘অত্যন্ত যৌক্তিক ও সুক্ষ্ম’ বলে অভিহিত করেন খারাজমি।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ইরানের জন্য বছরের পর বছর ধরে চলা ‘মার্কিন অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’ থেকে মুক্তির পথ খুলে দেবে। এটি কেবল ইরান নয়, বরং ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিল সাজানো হলেও তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাব এবং আমেরিকার প্রতি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ শান্তিচুক্তি অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সূএ: আল-জাজিরা

NB/
আরও পড়ুন