সিএনএনের প্রতিবেদন

যোদ্ধা হয়েও, কূটনীতিক ও পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ আব্বাস আরাঘচি

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রায় তিন দশকের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত এক দক্ষ আলোচক হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে ৬৩ বছর বয়সী আরাঘচির জন্ম ইরানের ইসফাহান শহরে। কৈশোরেই তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন, যা তার প্রাথমিক রাজনৈতিক ও জাতীয় অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে।

পরে যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।

গত দুই দশকে তিনি ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। আলোচনায় তার দক্ষতা, বিস্তারিত বিষয়ে দখল এবং কৌশলগত অবস্থান গ্রহণের সক্ষমতার জন্য তিনি অন্য আলোচকদের কাছেও প্রশংসিত।

২০১৫ সালে পশ্চিমা দেশ, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ইরানের যে পারমাণবিক চুক্তি হয়, সেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান।

২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন, যেখানে তার প্রধান দায়িত্ব ছিল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করা।

এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন, যদিও সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিমান হামলায় নিহত হলেও আরাঘচি সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হননি। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রে তাকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড ঘনিষ্ঠ এবং নতুন নেতৃত্বের কাছাকাছি থাকা অন্যান্য কর্মকর্তাদের কারণে তার প্রভাব কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি খোলা আছে বলে তার একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট দেশে সমালোচনার জন্ম দেয়, যা পরে দ্রুত সংশোধন করা হয়। সূত্র: সিএনএন

AS
আরও পড়ুন