হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা

আবারও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ১১:১৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা পুনরায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সোমবার (১১ মে) অপরিশোধিত তেলের দাম আরও একবার বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩.১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের (WTI) দাম ৩.২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৮.৪৮ ডলার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করছে।

জ্বালানি সংকটের মূল কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, যা দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে, তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘কঠিন সমস্যার’ সম্মুখীন হবে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বন্দরগুলোর ওপর তাদের কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার চেষ্টাকালে দুটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যা উত্তেজনাকে চরমে নিয়ে গেছে।

তেলের এই উচ্চমূল্যের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম এখন ৪.৫২ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ৩ ডলারের নিচে ছিল। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে বিশ্বজুড়ে নিত্যপণ্যের দাম আরও আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। শান্তি চুক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষণ না থাকায় জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন