লেবানন-ইসরায়েল চুক্তি

ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে দক্ষিণ লেবাননবাসী

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে রাতের বেশিরভাগ সময় পরিস্থিতি প্রধানত শান্তই ছিল। তবে এই আপাত শান্তির মাঝেই বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের দক্ষিণের বেশ কয়েকটি শহরে একাধিক কামানের গোলা বর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা এবং এর স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে মাঠপর্যায়ে একটি স্পর্শকাতর ফ্রন্ট লাইন বা যুদ্ধরেখা তৈরি হয়েছে, যেখানে কিছু লেবানিজ ভূখণ্ড ইসরায়েলি সেনারা দখল করে রেখেছে। অন্যদিকে, মনসুরি শহর পর্যন্ত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ এখনও হিজবুল্লাহর হাতেই রয়েছে। এই অঞ্চলগুলোতে লেবানিজ সামরিক বাহিনী এবং জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনীর সেনারাও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশিত যৌথ বিবৃতির যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া বা টেক্সটে এটি স্পষ্ট করা হয়নি যে—ইসরায়েল যখন যেখানে প্রয়োজন মনে করবে, সেখানে তাদের হামলা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে কি না। তবে গত এপ্রিল মাসে লেবাননে প্রথম যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই এটি এক ধরনের ‘অলিখিত নিয়ম’ হিসেবে চলে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ সকালে আর্টিলারি হামলা চললেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও শান্ত রয়েছে। আকাশে যুদ্ধবিমানের কোনো শব্দ শোনা না গেলেও, ভোররাত থেকে শুরু করে সকালের প্রথম কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত টায়ার শহরের ওপর দিয়ে একটি ইসরায়েলি ড্রোনকে বেশ নিচু দিয়ে উড়ে টহল দিতে দেখা গেছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গত রাতে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টায়ার শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা এই যুদ্ধবিরতির ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না। তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। স্থানীয় জনগণের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি তারা আগেও বহুবার দেখেছেন। তাই এই নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আদেও কোনো প্রকৃত বা বাস্তব ফলাফল বয়ে আনবে কি না, তা নিয়ে তারা মারাত্মকভাবে সন্দিহান। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন