পাকিস্তান মধ্যস্থতাকৃত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্থগিত করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাত ফের চরম আকার ধারণ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে যাওয়া কিংবা পুনরায় যুদ্ধবিরতির জন্য সংলাপে বসার বিষয়ে একমাত্র সিদ্ধান্ত নেবেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
রোববার ইরানি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এ কথা জানান।
তিনি জানান, সর্বোচ্চ নেতা এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানি বাহিনীর হামলাগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের টানা বিমান অভিযানের স্রেফ প্রতিরক্ষা ও পাল্টাজনিত প্রতিক্রিয়া।
আরাগচি আরও জানান, শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার বৈঠকে চলমান সামরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল শর্ত ছিল- হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইরানি তেল ও বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার। কিন্তু গত ৫ জুলাই প্রণালিতে ড্রোন হামলা এবং তার জবাবে ৭ জুলাই থেকে মার্কিন সেন্টকমের টানা বিমান হামলা ও ১৩ জুলাই ট্রাম্প কর্তৃক পুনরায় বন্দর অবরোধ আরোপের প্রেক্ষাপটে এই সমঝোতা স্মারকটি কার্যকারিতা হারায়।
বর্তমানে তেহরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলেও দেশের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।
টানা নবম রাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
জর্ডানের আকাবা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা