হুথিদের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব তার নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। বৈঠকে সৌদি-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রিন্স ফয়সাল বলেন, হুথিদের নিজেদের কিছু সমস্যা রয়েছে এবং তারা সেই সমস্যাগুলো সৌদি আরব ও ইয়েমেনের বৈধ সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের এই কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুথিদের বিরুদ্ধে ‘সংকীর্ণ স্বার্থকে অগ্রাধিকার’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, নিজেদের স্বার্থকে ইয়েমেনের জনগণের স্বার্থের ওপরে স্থান দিয়ে তারা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।
তবে সামরিক সংঘাতের মধ্যেও কূটনীতির সম্ভাবনা নাকচ করেননি তিনি। প্রিন্স ফয়সালের ভাষায়, “কূটনীতির পথ বন্ধ হয়নি।” সৌদি আরব সব সময় কূটনৈতিক সমাধানকে সমর্থন করবে। কিন্তু একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে রিয়াদের।
সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলা ঘিরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের দাবি, হুথিদের হামলায় আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রিয়াদ।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ভূখণ্ড, নাগরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে তারা হুথিদের উত্তেজনা বন্ধ এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে রিয়াদের বক্তব্যে কূটনীতির দরজা খোলা রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
ইয়েমেন সংঘাতের ক্ষেত্রে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথেই এগিয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যদিও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এখনো সম্ভব হয়নি। ২০২৩ সালেও প্রিন্স ফয়সাল বলেছিলেন, ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধান সামরিকভাবে নয়, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে একই সঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তা এবং কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে রিয়াদ হুথিদের হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা ও ইচ্ছার কথা স্পষ্ট করছে, অন্যদিকে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ না করার কথাও জানাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ইয়েমেন সংঘাত নতুন করে তীব্র হলে এর প্রভাব শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
ইয়েমেনের লাখো শিশু টিকার সংকটে
সৌদি আরবে হামলার প্রশংসা হুথি কর্মকর্তার
‘সৌদির সঙ্গে সামরিক শক্তি দিয়ে বিরোধ মেটানো গ্রহণযোগ্য নয়’