ইয়েমেনের হুতিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সামরিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। সৌদি রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরবকে কীভাবে সামরিকভাবে সহযোগিতা করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা করবেন তিন দেশের সামরিক প্রধানরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে সৌদি আরবের মক্কাসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হুতিদের হামলার নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চুক্তির অন্যতম মূলনীতি হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর আওতায় তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্যেই সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে মক্কা, জেদ্দা ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
এ পরিস্থিতিতে তুরস্কের সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লুর সৌদি আরব সফরের কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রিয়াদে তিনি সৌদি ও পাকিস্তানের সামরিক প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ জানিয়েছেন, ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সৌদি আরবকে সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করবে ফ্রান্স।
এদিকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, উত্তেজনা কমানো এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।
পেজেশকিয়ানের ভাষণ ইরানি জাতির কণ্ঠস্বর: খাতেমি
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-শির নৈশভোজে কী ছিল মেনুতে?
ইরানের কিছু সামরিক সক্ষমতা এখনও কেউ দেখেনি: আইআরজিসি