ফিলিস্তিনই হিজবুল্লাহ'র প্রধান অগ্রাধিকার: নাঈম কাসেম

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

ফিলিস্তিনকে হিজবুল্লাহর প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটির মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, ইসরায়েলি আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রতি অঙ্গীকার এবং প্রতিরোধের পথ থেকে হিজবুল্লাহ সরে যাবে না।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নাঈম কাসেম। হিজবুল্লাহর সাবেক দুই মহাসচিব হাসান নাসরাল্লাহ ও হাশেম সাফিয়েদ্দিনের শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি সংগঠনটির নীতি ও প্রতিরোধের পথ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নাঈম কাসেম বলেন, ফিলিস্তিন হিজবুল্লাহর প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে লেবাননের দখলকৃত ভূখণ্ড মুক্ত করার লক্ষ্যেও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। তার ভাষ্য, প্রতিরোধের দায়িত্ব হলো আগ্রাসনের মোকাবিলা করা, দখলদারিত্বকে প্রতিষ্ঠিত হতে না দেওয়া এবং দখলকৃত ভূখণ্ড মুক্ত করার জন্য কাজ করা।

হিজবুল্লাহর মহাসচিব বলেন, তাদের প্রতিরোধের পথ একটি ইসলামী, জাতীয় ও মানবিক প্রতিরোধের পথ। আগ্রাসনের কারণে এই প্রতিরোধের জন্ম হয়েছে এবং সংগঠনটি নিজেদের নীতিতে অটল থাকবে। তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ নিহত হলে একই পথ অনুসরণ করে নতুন নেতৃত্ব সেই দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

নাঈম কাসেম আরও বলেন, লেবাননের কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। দখলদার বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত এবং দখলকৃত এলাকা পুরোপুরি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

তিনি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলকে দেশটির ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, লেবাননের সংকটের মূল কারণ প্রতিরোধ নয়, বরং আগ্রাসন। তিনি বলেন, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ না থাকলে দখলদারিত্ব আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।

লেবাননের রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে নাঈম কাসেম বলেন, প্রতিরোধকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা গত দুই বছর ধরে করা হলেও তা সফল হয়নি। এখন একই দায়িত্ব সেনাবাহিনীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেটি লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পরিস্থিতি তৈরি করবে।

তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনারও সমালোচনা করেন। নাঈম কাসেম বলেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং সেখানকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরই নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তিনি সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে পরোক্ষ আলোচনার পক্ষে অবস্থান জানান। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন