ইরানের ওপর কথিত ‘আকাশ অবরোধ’ বন্ধ করতে ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে ইরাকি আকাশসীমায় ‘শত্রুভাবাপন্ন’ কোনো বিমান প্রবেশ করলে তা গুলি করে ভূপাতিত করার হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি।
যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইরাক থেকে তাদের সামরিক মিশন শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্যেই সোমবার কাতায়েব হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় এরবিলের একটি ঘাঁটি থেকে জোটের সদস্যরা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার শুরু করেছেন।
কাতায়েব হিজবুল্লাহর নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তা আবু মুজাহিদ আল-আসাফ এক বিবৃতিতে বলেন, সংগঠনটি ইরাকি আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো ‘শত্রুভাবাপন্ন’ বিমান আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে প্রথমে সতর্ক করা হবে এবং এরপর সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর ইরান থেকে ইরাকে বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানি বিমান সংস্থা ও তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো পড়ায় ইরাকি বিমানবন্দরগুলোও চাপের মুখে পড়ে।
গত শুক্রবার ইরবিল ও সুলাইমানিয়াসহ ইরাকের চারটি বিমানবন্দর থেকে ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। এর আগে বাগদাদ ও নাজাফ বিমানবন্দর থেকেও ইরানি ফ্লাইট বন্ধ করা হয়। ফলে ইরান-ইরাকের নিয়মিত বিমান যোগাযোগ পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
কাতায়েব হিজবুল্লাহ এই পরিস্থিতিকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘আকাশ অবরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি বলেছে, আগামী ১ অক্টোবরের পরও এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ইরাকের সীমান্তপথ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইরাক সরকার একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও বজায় রাখতে চাইছে। নাজাফ ইরাকের শিয়া মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হওয়ায় ইরান থেকে সেখানে যাতায়াত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই চাপের মধ্যেই ইরাকে ইরানি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার বিষয়ে উদ্যোগ দেখা গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান-ইরাকের নাজাফ রুটে ইরাকি এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এক মাসের সীমিত নিষেধাজ্ঞা ছাড় দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিমান যোগাযোগ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কাতায়েব হিজবুল্লাহর সর্বশেষ হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন গ্লোবাল কোয়ালিশনের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে এসেছে।
ইরাকি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোয়ালিশনের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার কথা। এরই মধ্যে এরবিল থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে মার্কিন ও ইরাকি নিরাপত্তা সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে কি না, তা আলাদা বিষয়।
কাতায়েব হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে। সংগঠনটি ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং ইরাকের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বৃহত্তর কাঠামো পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের অংশ।
ইরানের বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কাতায়েব হিজবুল্লাহর হুমকি ইরাককে নতুন একটি কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে ফেলতে পারে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার চাপ, অন্যদিকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা দুই দিকই সামলাতে হচ্ছে বাগদাদকে।
বিশেষ করে ইরাকি আকাশসীমায় কোনো বিদেশি বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হলে তা সরাসরি আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফলে নাজাফ ও অন্যান্য বিমানবন্দরে ইরানি ফ্লাইট পরিচালনার প্রশ্নটি এখন শুধু বাণিজ্যিক যোগাযোগের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ইরাকের নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানও জড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে কাতায়েব হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা ইরাকি সরকারের বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, সরকার জনগণের স্বার্থে কাজ না করলে তা ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ফলে ইরান-ইরাক বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী ১ অক্টোবরকে ঘিরে বাগদাদের সামনে নতুন করে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
অস্বাভাবিক লম্বা চুল নিয়ে অদ্ভুত কাণ্ড, প্রতিপক্ষকে জোড়া লাল কার্ড
'ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোও নিরাপদ নয়'
বাংলাদেশকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি দিতে পারবে না কাতার এনার্জি