ইরানে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরানের (এনইউএফডিআই) গবেষণা পরিচালক খসরো ইসফাহানি। তাঁর অভিযোগ, অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় দেশটির শাসকগোষ্ঠী মৃত্যুদণ্ড ও ভীতির পরিবেশ তৈরির পথ বেছে নিয়েছে। এই আদর্শকে তিনি ‘ডেথ কাল্ট’ বা ‘মৃত্যু উপাসনার সংস্কৃতি’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের ‘আই ফর ইরান’ অনুষ্ঠানের ১২৪তম পর্বে দেওয়া এক আলোচনায় ইসফাহানি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত—এমন একটি আদর্শ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে তাঁর ধারণা। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ড ও ভয়ভীতি প্রদর্শনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ।
ইরানে ২০২৬ সালের জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। রয়টার্সের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের কার্যক্রমের মাধ্যমে বিরোধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টির একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা দেখা গেছে। প্রতিবেদনে দ্রুত বিচার, বন্ধ কক্ষে বিচারপ্রক্রিয়া, টেলিভিশনে প্রচারিত স্বীকারোক্তি এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
ইরানের বিচার বিভাগ অবশ্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ তুলে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে থাকে। ফলে প্রতিটি মামলার অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং প্রমাণ আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার, আইনজীবীর সহায়তা এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
‘ডেথ কাল্ট’ শব্দবন্ধটি ইসফাহানির ব্যবহৃত কঠোর রাজনৈতিক বর্ণনা; এটি কোনো নিরপেক্ষ বা আনুষ্ঠানিক শ্রেণিবিভাগ নয়। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষের সমালোচনা প্রকাশ পেয়েছে। তবে এই মূল্যায়নকে যাচাইকৃত তথ্য থেকে পৃথকভাবে দেখা প্রয়োজন।
ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার, রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অভিযোগ দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নে নির্ভরযোগ্য নথি, আদালতের তথ্য এবং স্বাধীন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
'সিনিয়র শিক্ষক' হচ্ছেন ১০২০ জন, খসড়া তালিকা প্রকাশ
পানামায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও ফ্লাইট বন্ধ
‘সব দাবি মানো, নয়তো অস্তিত্ব থাকবে না’ ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি