ইরানে বাসিজের বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিশোরের মৃত্যু

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

ইরানের ইসফাহান প্রদেশে আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর সদস্যদের মারধরের পর হেফাজতে থাকা ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বাবার আকুতিও প্রত্যাখ্যান করেন এক বিচারক। পরে আদালত ভবনেই জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারা যায় ওই কিশোর। ঘটনার সঙ্গে পরিচিত এক সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

নিহত কিশোরের নাম ওমিদ গানুনি। সে ইসফাহান প্রদেশের খনসার কাউন্টির আরজানাক গ্রামের বাসিন্দা ছিল। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসিজের এক সদস্যের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে গত ৫ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়। আটকের সময় বাসিজ সদস্যরা রাইফেলের বাট দিয়ে তাকে ব্যাপক মারধর করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটকের পর ওমিদকে ভিস্ত পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়েছিল। পরদিন সকালে তাকে খনসারের আদালত ভবনে নেওয়া হয়। সেখানে বিচারিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার পেটে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল এবং শারীরিক অবস্থাও গুরুতর খারাপ ছিল বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। এ সময় আদালত ভবনে উপস্থিত তার বাবা ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বিচারিক কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন।

ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে নিজের পরিবর্তে তাকে আটক রাখার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। এরপরও জিজ্ঞাসাবাদ চলতে থাকে। একপর্যায়ে ওমিদ চেয়ারে বসা অবস্থায় ঢলে পড়ে এবং আদালত ভবনেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ খনসারের ফাতেমিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ওই সূত্রের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শনাক্ত করেন। কিশোরটির শরীর ও মুখে ব্যাপক কালশিটে দাগ এবং আঘাতের চিহ্নও ছিল বলে জানানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ইরান ইন্টারন্যাশনাল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বা স্বাধীন চিকিৎসা নথি সংগ্রহ করতে পারেনি। মরদেহের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে সূত্রটি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজ গ্রামে ওমিদের দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারকে নীরব থাকতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ঘটনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রটি। পরদিন শুক্রবার (১০ অক্টোবর) পরিবারের সদস্যরা ভিস্ত পুলিশ স্টেশনের বাইরে জড়ো হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন।

ওমিদের মা সেখানে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সোমবার বাড়ির বাইরে থেকে তার ছেলেকে আটক করা হয়েছিল, আর মঙ্গলবার খনসার আদালত তাকে ছেলের মরদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে। ছেলের সঙ্গে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের কাছে জবাব চান তিনি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কিশোরটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিচারিক বা পুলিশি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

ইরানে হেফাজতে বা আটকের পর মৃত্যুর আরও কয়েকটি ঘটনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইসফাহানের দাস্তগের্দ কারাগারে আলী হাশেমি ও আকবর মোহাম্মদি, আমোল কারাগারে তাঘি সালিমি এবং মাশহাদে আটকের পর আরাশ তোলু শেখজাদেহর মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। এসব ঘটনায় নির্যাতন, চিকিৎসা না দেওয়া এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তার অভিযোগ উঠেছিল। তবে ওমিদ গানুনির মৃত্যুর ঘটনাতেও স্বাধীনভাবে যাচাই করা চিকিৎসা নথি ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত