ইরানে স্থল অভিযান চালানোর সাহস যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি। তার দাবি, ওয়াশিংটনের সবচেয়ে কট্টরপন্থী কর্মকর্তারাও জানেন, ইরানে স্থল হামলা চালালে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে নাকদি বলেন, ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠকগুলোতেও এ ধরনের হামলার বিষয়ে বাস্তব কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক মাস পর নতুন করে স্থল অভিযান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাকদি বলেন, আমার মনে হয়, আমেরিকার একান্ত ব্যক্তিগত বৈঠকগুলোতেও স্থল হামলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তারা গণমাধ্যমে প্রচারণার অংশ হিসেবে এ বিষয়ে কথা বলছে। কিন্তু গোপনে, এমনকি একে অপরের কানে কানে বলার সময়ও তারা স্থল হামলার কথা বলেনি। কারণ, তারা জানে, এমন পদক্ষেপ নিলে তাদের কী পরিণতি হবে।
আইআরজিসি প্রধানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাকদি ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানকে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দশক আগে শুরু হওয়া ওই অভিযানগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো তিক্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
নাকদির দাবি, ইরানে স্থল অভিযান চালালে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা ইরানি বাহিনীর হাতে আটক হবে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আত্মসমর্পণ করা এবং সাদা পতাকা তোলা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। তিনি বলেন, এমন অভিজ্ঞতার পর ইরানে স্থল হামলার সিদ্ধান্ত নিতে কোন হিসাবি ব্যক্তি রাজি হবেন? স্থল অভিযানের পরিণতিও একই রকম হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন এই জ্যেষ্ঠ ইরানি কমান্ডার। তার দাবি, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো পারস্য উপসাগরের জলসীমায় ঘোরাফেরা করলেও ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও রসদ সরবরাহকেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি যেতে পারেনি।
নাকদি বলেন, গত ১০০ বছর ধরেই পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা পিছু হটেছে এবং এক হাজার কিলোমিটারের মধ্যেও আসতে পারছে না। কারণ, কাছে এলে তাদের কী ঘটতে পারে, তা তারা জানে।
ইরানি কমান্ডারের বক্তব্যে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থান এবং এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে ইরানে স্থল অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে নাকদির দাবির পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: ডন
'মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে অধীর অপেক্ষায় ইরান'
হিজবুল্লাহকে ইরানের অর্থ দেওয়ার খবর নিয়ে প্রশ্ন তুললো যুক্তরাষ্ট্র
ইরানকে নিয়ে আর ধৈর্য নেই যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প