যুক্তরাষ্ট্রকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে ইরান: গালিবাফ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

সামরিক শক্তি ও আলোচনার সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে চায় তেহরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং ছাড় দিতে হবে। তার মতে, শুধু যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কিংবা কেবল আলোচনার ওপর নির্ভর করে প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত করা সম্ভব নয়; বরং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক তৎপরতা একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গালিবাফ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো লিখিত চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি দিলেই ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আর হামলা চালাবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। তার মতে, কেবল নথিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা ঠেকানো যাবে না।

গালিবাফ বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত রাখা কিংবা উত্তেজনা বাড়ানোও প্রতিপক্ষকে ভবিষ্যতে হুমকি দেওয়া থেকে বিরত রাখার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই ইরানকে এমন একটি কৌশল অনুসরণ করতে হবে, যেখানে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আলোচনার সুযোগও কাজে লাগানো হবে। তার ভাষায়, এই দুইয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

ইরাকের সঙ্গে ইরানের আট বছরব্যাপী যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গালিবাফ বলেন, ওই সংঘাতে বিপুল ব্যয় ও দুর্ভোগ সত্ত্বেও ইরান এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পেরেছিল, যার ফলে পরবর্তী কয়েক দশক দেশটির ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়েছে। তার বক্তব্য, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

গালিবাফের মতে, প্রতিরোধক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সামরিক শক্তি যথেষ্ট নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ মোকাবিলার সামর্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক সক্ষমতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের গোলাবর্ষণ ক্ষমতা, আক্রমণাত্মক সামর্থ্য ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। তার দাবি, ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে সর্বশেষ সংঘাত পর্যন্ত এসব সক্ষমতা আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সামর্থ্য, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত অবস্থান, জাতীয় ঐক্য এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিস্থাপকতাকেও প্রতিরোধব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। গালিবাফের মতে, এসব সক্ষমতার সম্মিলিত ব্যবহারই ইরানকে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, দেশটিকে এমন শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অন্য কোনো পক্ষ সামরিক হামলা চালিয়ে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারে। প্রয়োজন হলে পূর্ণ শক্তি দিয়ে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি রাখতে হবে। পাশাপাশি কূটনৈতিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে সামরিক অর্জন সংহত করা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে রাজনৈতিক ও আইনি অর্জনে রূপান্তর করতে হবে। অন্যদিকে, আলোচনা থেকে এমন সুযোগ ও সময় বের করে নিতে হবে, যা ইরানকে নিজস্ব সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ, সামরিক সাফল্যকে কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের অর্জন হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সুবিধায় পরিণত করাই হওয়া উচিত ইরানের লক্ষ্য।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ ও আলোচনাকে একই কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহারের অর্থ অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কিংবা চিরস্থায়ী আলোচনায় আটকে থাকা নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হলো, প্রতিপক্ষকে ইরানের দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য করা। যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পরাজয় স্বীকার করতে হবে এবং এমন ছাড় দিতে হবে, যা ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে।

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে গালিবাফ জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে জনগণের ওপর চলমান অর্থনৈতিক চাপ কমাতে দেশের বিদ্যমান সম্পদ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, বর্তমান দুর্ভোগ কাটিয়ে আরও আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন