জব্দকৃত বিস্ফোরক ফেরত না দিতে লেবাননকে রুবিও'র আহ্বান

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর কাছ থেকে জব্দ করা বিস্ফোরক কোনোভাবেই সংগঠনটির কাছে ফেরত না দিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে বিস্ফোরকের চালানটির পেছনে যারা নির্দেশনা দিয়েছে, অর্থায়ন করেছে এবং পরিচালনা করেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লেবাননের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় এসব আহ্বান জানান রুবিও।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর কাছ থেকে কয়েক'শ কেজি বিস্ফোরক জব্দের বিষয়টি নিয়ে আউনের সঙ্গে আলোচনা করেন রুবিও। এ সময় তিনি জব্দ করা বিস্ফোরক হিজবুল্লাহর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করার ওপর জোর দেন।

এ ছাড়া সংঘাত এড়ানো এবং সামরিক পর্যায়ে সমন্বয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লেবানন ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা জানান, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

গত সপ্তাহে লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী একটি গাড়ি থেকে বিস্ফোরক জব্দ করে। পরে হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ জানান, জব্দ করা বিস্ফোরকগুলো তাদের সংগঠনের। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এসব বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল। চলতি বছরের যুদ্ধে দখল করা লেবাননের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে এখনো ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা এবং লেবাননের এক নিরাপত্তা সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে গাড়ি থেকে জব্দ করা বিস্ফোরকগুলো দিয়ে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন তৈরি করে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিস্ফোরকগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা সম্পর্কে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি হিসেবে এসেছে।

অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, রুবিওর সঙ্গে আলোচনায় জোসেফ আউন তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সশস্ত্র প্রদর্শন বন্ধ করা, অস্ত্র জব্দ করা এবং চোরাচালান দমনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেশটির সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের শহর ও গ্রামগুলোতে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান আউন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা বৃহত্তর যুদ্ধের মধ্যে ২ মার্চ লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। এর আগে তেহরানের সমর্থনে সংগঠনটি ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করেছিল, যার ফলে লেবাননও বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

এরপর ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। যুদ্ধ চলাকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া সমঝোতার আওতায় বৈরুত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছিল। এর বিনিময়ে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে লেবানন থেকে প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। তবে লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি বজায় থাকা পর্যন্ত নিরস্ত্র হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলাও অব্যাহত রয়েছে। ফলে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা বাস্তবায়ন জটিল হয়ে উঠেছে। সূত্র: আরব নিউজ

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত