ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরানো হচ্ছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থায় রাডার, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। সম্ভাব্য সংঘাত বাড়লে মার্কিন বাহিনীর প্রতিরক্ষা জোরদার করতেই এই ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন এ বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশকে প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী গোলাবারুদের মজুত বাড়াচ্ছে। সম্ভাব্য হামলার জন্য বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
নভেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে আরও একটি বিমানবাহী রণতরির বহর ও মেরিন সেনাদের একটি অভিযানিক ইউনিট যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অঞ্চলটিতে থাকা কিছু জাহাজ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এর আগে, ১ অক্টোবর মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং অতিরিক্ত মেরিন সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ইরানের অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার দিকেই তিনি ঝুঁকছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাও এখনো রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা আক্রমণ আরও বিস্তৃত করার হুমকি দিয়েছে ইরান। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনাও থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পাঠানো এক গোয়েন্দা স্মারকলিপিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ইরানি প্রচেষ্টা বেড়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছিল বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে প্রস্তুতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ইরান। ১৫ অক্টোবর দুই কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় তেহরান হিজবুল্লাহকে সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা বলেছে। তবে নতুন কোনো সামরিক অভিযান কখন শুরু হতে পারে, তার পরিধি কতটা হবে কিংবা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প হামলার অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
ফের হামলা হলে বিশ্ববাজারে ভয়াবহ প্রভাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে প্রস্তুত আরব জোট
তেহরানের বৈঠক ঘিরে ইরানের কট্টরপন্থীদের মধ্যে মতভেদ