যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের কারণে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করেই নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মস্কোয় গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের অষ্টম সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক উত্তেজনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ইরানের প্রতি রাশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের প্রতি রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাশিয়ার সমর্থনকে তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানো এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা ও সদিচ্ছা, দুটিই এ অঞ্চলের দেশগুলোর রয়েছে। বিজ্ঞান, অর্থনীতি, শিল্প, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা ও সামরিক ক্ষেত্রেও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় ও গণমাধ্যম সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। মস্কো, কাজান ও আস্ত্রাখানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বেতার ও টেলিভিশন সম্প্রচার সংস্থাকে ইরানে প্রতিনিধি কার্যালয় খোলার প্রয়োজনীয় অনুমতিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কার্যালয়টি চালুর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি তেহরানে রাশিয়ার সাংস্কৃতিক উৎসব ও প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনাকেও স্বাগত জানান তিনি।
বৈঠকে পুতিন জানান, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। তেহরানের সঙ্গে যৌথ প্রকল্পগুলোতে রাশিয়া নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বলেও উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
পুতিন পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ইরানের সঙ্গে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ বাস্তবায়নে রাশিয়া কাজ করছে বলেও জানান তিনি। গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের সম্মেলনকে গঠনমূলক উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্টকে মস্কোয় স্বাগত জানাতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন পুতিন। সূত্র: প্রেস টিভি
ফের হামলা হলে বিশ্ববাজারে ভয়াবহ প্রভাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
তেহরানের বৈঠক ঘিরে ইরানের কট্টরপন্থীদের মধ্যে মতভেদ
তেহরানে চার দেশের বৈঠকে আঞ্চলিক সংলাপের পথ খুলেছে: আরাঘচি