মাদুরোর পর ট্রাম্পের পরবর্তী নিশানায় কে

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১২ পিএম

সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, যদি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে সহযোগিতা না করেন এবং দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা না রাখেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী নিশানা হতে পারেন তিনি।

এ বিষয়ে জানাশোনা আছে, এমন তিনটি সূত্র এ কথা বলেছে।

মাদুরোর যে অল্প কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী আছেন, তাঁদের মধ্যে দিওসদাদো কাবেলো অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ভেনেজুয়েলা একটি রূপান্তরকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাবেলোসহ মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের ওপরই সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুটি সূত্র বলেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলোর মতো পাদ্রিনোও যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের একটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত। বিচারের মুখোমুখি করতে পাদ্রিনোকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন কয়েক লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাবেলোর পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কাবেলোকে নিয়ে তাই বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁদের আশঙ্কা, তিনি এ সময়ে পরিস্থিতি ‘অস্থিতিশীল করতে পারেন’। এ কারণে ওয়াশিংটন একদিকে তাঁর কাছ থেকে চাপ দিয়ে সহযোগিতা আদায়ের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে তাঁকে ক্ষমতার বাইরে ঠেলে দিয়ে নির্বাসনে পাঠানোর পথের খোঁজও চলছে।

কাবেলোর জন্য সতর্কবার্তা
সূত্র বলেছে, মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দিওসদাদো কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কাবেলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি তিনি প্রতিরোধ করেন, তবে তাঁকেও মাদুরোর ভাগ্যবরণ করতে হবে, অথবা নিজের জীবনকে বিপদের মধ্যে দেখতে পাবেন।

এ মুহূর্তে কাবেলোকে ক্ষমতা থেকে সরানো বিপজ্জনক হতে পারে। এটা করতে গেলে ‘কালেক্টিভোস’ নামে পরিচিত সরকারপন্থী মোটরসাইকেল বাহিনী সড়কে নেমে তুমুল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে যেতে চায়। এ সময়ে কালেক্টিভোস বাহিনীর প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে সরকার থেকে তারা সুরক্ষিত বোধ করছে কি না তার ওপর।

ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য নিশানায় আরও যারা আছেন, তাদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজের নামও রয়েছে।

দুটি সূত্র বলেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলোর মতো পাদ্রিনোও যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের একটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত। বিচারের মুখোমুখি করতে পাদ্রিনোকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন কয়েক লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটি আইন বাস্তবায়নের অভিযান এবং আমাদের এ অভিযান এখনো শেষ হয়নি।’

ভেনেজুয়েলায় নেতৃত্বের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা এড়াতে পাদ্রিনোর সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কারণ, তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে আছেন।

এ মুহূর্তে কাবেলোকে ক্ষমতা থেকে সরানো বিপজ্জনক হতে পারে। এটা করতে গেলে ‘কোলেক্টিভোস’ নামে পরিচিত সরকারপন্থী মোটরসাইকেল বাহিনী সড়কে নেমে তুমুল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এগিয়ে যেতে চায়। এ সময়ে কোলেক্টিভোস বাহিনীর প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে সরকার থেকে তারা সুরক্ষিত বোধ করছে কি না তার ওপর।

সূত্র বলেছে, ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে, কাবেলোর তুলনায় পাদ্রিনো কম জেদি এবং নিজের নিরাপদে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ খুঁজতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ অনুসরণ করার সম্ভাবনা বেশি।

এ নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট করে ওই প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) ভেনেজুয়েলায় অবশিষ্ট শক্তিগুলোর ওপর সর্বোচ্চ প্রভাব খাটানোর কথা বলছেন। তিনি নিশ্চিত করতে চাইছেন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন। তাঁরা অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা, মাদক পাচার রোধ করা, তেল অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য সঠিক কাজ করবেন।’

AHA
আরও পড়ুন