মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ায় আবারও ‘বড় পরিসরের’ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে দেশটির পালমিরা শহরে অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার পর দেশটিতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
মূলত নতুন এই হামলার মাধ্যমে ওয়াশিংটন স্পষ্ট বার্তা দিলো যে মার্কিন সেনাদের ওপর আঘাত এলে বিশ্বের যে প্রান্তেই হোক, হামলাকারীদের খুঁজে বের করে জবাব দেয়া হবে। খবর আল জাজিরা
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গ্রিনিচ মান সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই হামলা চালানো হয়। এতে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আইএসের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘আমাদের বার্তা পরিষ্কার— আমাদের যোদ্ধাদের ক্ষতি করলে আমরা আপনাদের খুঁজে বের করব এবং বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন, আপনাদের হত্যা করা হবে। ন্যায়বিচার এড়াতে যতই চেষ্টা করুন, লাভ হবে না।’
অবশ্য হামলায় হতাহতের কোনও তথ্য জানানো হয়নি। সেন্টকমের বিবৃতির সঙ্গে এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত ঝাপসা আকাশচিত্রে দেখা যায়, গ্রামীণ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটছে। সেন্টকম জানায়, এই হামলা অংশীদার বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে চালানো হয়েছে। তবে কোন বাহিনী এতে যুক্ত ছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
আল জাজিরা বলছে, পালমিরার ওই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান চালিয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’। গত ১৩ ডিসেম্বরের ওই অতর্কিত হামলাটি চালিয়েছিল একজন বন্দুকধারী। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই ব্যক্তি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিল এবং চরমপন্থি মতাদর্শের কারণে তাকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর অপারেশন হকআই স্ট্রাইকের আওতায় প্রথম দফায় সিরিয়ায় বড় ধরনের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় মধ্য সিরিয়ায় আইএসের অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডার থাকা ৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। এরপর ৩০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অভিযানের শুরু থেকে আইএসের প্রায় ২৫ জন যোদ্ধাকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বছরের পর বছর ধরে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ওয়াশিংটন ক্রমেই দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে এক সমঝোতার মাধ্যমে আইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটে যোগ দেয় সিরিয়া। সেই সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউসও সফর করেন।
সিরীয় কর্মকর্তারা গত মাসে জানান, আইএসের শীর্ষ নেতা তাহা আল-জুবিকে দামেস্কের উপকণ্ঠ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে সন্দিহান। প্রথম মেয়াদে তিনি সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও শেষ পর্যন্ত দেশটিতে মার্কিন বাহিনী থেকে যায়। বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সিরিয়ায় সেনা সংখ্যা আরও কমানো হবে এবং ধাপে ধাপে দেশটিতে মার্কিন ঘাঁটির সংখ্যা কমিয়ে একটিতে নিয়ে আসা হবে।

