ইরানকে ‘নজরে রাখতে’ এবং দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারস্য উপসাগরের অভিমুখে একটি বিশাল নৌ-বহর বা ‘আর্মাদা’ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করলে ইরানকে কঠিন পরিণাম ভোগ করতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নৌ-বহরে রয়েছে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং বেশ কিছু গাইডেড মিসাইল বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষা করতে অতিরিক্ত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েনের পরিকল্পনাও চলছে। গত সপ্তাহে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই বহরটি যাত্রা শুরু করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার সরাসরি হুমকির মুখে ইরান প্রায় ৮৪০ জন বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি—যদি তোমরা ওই মানুষদের ফাঁসি দাও, তবে তোমাদের ওপর এমনভাবে আঘাত করা হবে যা আগে কখনো দেখনি। গত জুনে তোমাদের পারমাণবিক সাইটে আমাদের হামলা তখন এর তুলনায় তুচ্ছ মনে হবে।’ গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেশ কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA)-এর তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৪,৫১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ইরানের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৫,০০০ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর উদ্বেগ বাড়িয়ে ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ ৪৪০.৯ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে, যা অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি আবারও পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সূত্র: রয়টার্স
'বোর্ড অব পিস' গঠনের ঘোষণা ট্রাম্পের, সদস্য হতে গুনতে হবে ১০০ কোটি ডলার
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত: ট্রাম্প
