গ্রিনল্যান্ড দখল ও ইউরোপীয় পণ্যে শুল্ক আরোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান চাপ ইউরোপকে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় আপাতত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারলেও, দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফাটলের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান এই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে। সম্মেলনে ট্রাম্প প্রথমে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করলেও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে একটি অস্পষ্ট ‘চুক্তি’র দাবি করেন। একইসঙ্গে ইউরোপের আটটি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করে নিলেও ইউরোপীয় নেতারা একে দেখছেন ‘চাপ সৃষ্টির কৌশল’ হিসেবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের মতে, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করা হবে না—এই কঠোর অবস্থানে অনড় থাকায় ট্রাম্প কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে ইউরোপীয় নেতারা জানেন, ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটোর প্রভাব এবং ২ ট্রিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
কার্নেগি ইউরোপের পরিচালক রোজা বালফুর বলেন, ইউরোপের হাতে প্রভাব থাকলেও তারা তা ব্যবহারে এখনও যথেষ্ট সাহস দেখাতে পারেনি। তবে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মুখে ইউরোপ এখন ‘ডি-রিস্কিং’ বা ঝুঁকি কমানোর পথে হাঁটছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘ইচ্ছুকদের জোট’ (Coalitions of the Willing) তৈরির আলোচনা জোরদার হচ্ছে, যেখানে কোনো একক দেশ ভেটো দিয়ে সিদ্ধান্ত আটকাতে পারবে না।
অর্থনৈতিকভাবেও সুরক্ষাবাদী পথে এগোচ্ছে ইউরোপ। আগামী মাস থেকে ‘মেড ইন ইউরোপ’ শর্ত এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন শুরু হতে যাচ্ছে। মূলত চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই আইন ভাবা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন ইউরোপীয় কমিশনার স্তেফান সেজুর্নে।
জার্মান কোম্পানিগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়া এবং ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতি ইউরোপকে বিকল্প বাজারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি যেমনটি দাভোসে সতর্ক করেছেন— “মাঝারি শক্তিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতেই হবে। কারণ আমরা যদি টেবিলে না থাকি, তবে আমরা মেনুতেই থাকব।” ইউরোপ এখন সেই মেনু থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে ‘টেবিলে’ আসন পাকাপোক্ত করার লড়াইয়ে নামছে।
‘শান্তি পর্ষদে’ কানাডাকে দেওয়া আমন্ত্রণ প্রত্যাহার
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্র
