ফিলিস্তিনের গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকিতে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার জন্য কানাডাকে দেওয়া আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মঙ্গলবার দাভোসে দেওয়া বক্তৃতায় শক্তিশালী দেশগুলোর সমালোচনা করে মার্ক কার্নি বলেন, তারা অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার বানাচ্ছে। তার এই বক্তব্যের পরই ট্রাম্প কানাডার আমন্ত্রণ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই চিঠির মাধ্যমে জানানো হচ্ছে যে, কানাডার কাছ থেকে শান্তি পর্ষদের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হলো। এটি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নেতাদের পর্ষদে পরিণত হবে।’
শান্তি পর্ষদের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে মার্ক কার্নির দপ্তর কিংবা হোয়াইট হাউস—কোনো পক্ষই রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কার্নির দপ্তর জানিয়েছিল, তারা শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং তা গ্রহণ করবে।
দাভোসে দেওয়া বক্তৃতায় কার্নি আরও বলেন, নিয়মনীতিভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বিশ্বনেতাদের তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মধ্যপন্থী শক্তিগুলো’ একসঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের ভুক্তভোগী হওয়া থেকে নিজেদের কীভাবে রক্ষা করতে পারে, সেটি কানাডা দেখাতে পারে। বক্তৃতার পর শ্রোতারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
অন্যদিকে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বেঁচে আছে।’ দাভোসে দেওয়া নিজের বক্তৃতায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদারতার জন্য মার্ক কার্নির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত এবং নাম ধরে বলেন, ‘মার্ক, পরেরবার বক্তৃতা দেওয়ার সময় এটা মনে রেখো।’
গতকাল দাভোসে শান্তি পর্ষদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি কানাডার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেন। এই পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাম্প।
প্রাথমিকভাবে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই শান্তি পর্ষদ গঠনের ঘোষণা দিলেও পরে এর পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়। বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সংঘাত নিরসনই হবে এ পর্ষদের মূল লক্ষ্য। স্থায়ী সদস্য হতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ১০০ কোটি ডলার করে দিতে হবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র রোলান্ডো গোমেজ জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সঙ্গে পর্ষদের যোগাযোগ গাজার প্রেক্ষাপটেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, মরক্কো, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ শান্তি পর্ষদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালিসহ কয়েকটি মার্কিন মিত্রদেশ জানিয়েছে, তারা আপাতত এই পর্ষদে যোগ দিচ্ছে না।
যুদ্ধ বন্ধে প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র
